কলকাতার বুকে ফের রাজনৈতিক হিংসার বীভৎস রূপ! গেরুয়া শিবির ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দিতে রাজি না হওয়ায় এক বিজেপি কর্মীর দোকান ও বাইক পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মী রাজেশ মণ্ডলের দাবি, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের মদতেই তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনন্দপুর থানা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রাজেশ মণ্ডলের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন শাসকদলের অনুগামীরা। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবেই গভীর রাতে তাঁর দোকান এবং বাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ জানাতে আনন্দপুর থানায় গেলে পুলিশ প্রথমে ডায়েরি নিতে অস্বীকার করে বলে দাবি বিজেপির। খবর ছড়িয়ে পড়তেই পদ্ম শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা থানার সামনে জমায়েত হয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। চাপের মুখে পড়ে পুলিশ শেষ পর্যন্ত অভিযোগ গ্রহণ করলেও নিরাপত্তা নিয়ে এখনও আতঙ্কিত রাজেশের পরিবার। রাজেশের স্ত্রী মৌমিতা মণ্ডল জানিয়েছেন, তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৩০৮ নম্বর বুথটি ২০১৫ সাল থেকেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই আক্রোশ থেকেই বারবার বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর আগেও সুখেন হালদার নামে এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল এই একই কাউন্সিলরের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ সুরক্ষার আশ্বাস দিলেও রাজেশের বাড়ির সামনে এখনও কোনো পাহারা বসানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘পারিবারিক বিবাদ’ বা ‘বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বলে দাবি করেছে।





