জেল হেফাজতে মৃত্যু হাসিনা আমলের দাপুটে মন্ত্রী রমেশ সেনের! তুঙ্গে বিতর্ক, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে ফের এক নজিরবিহীন ঘটনা। জেল হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু হল প্রাক্তন জলসম্পদ মন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা রমেশ চন্দ্র সেনের। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একাধিক মন্ত্রী দেশ ছাড়লেও রমেশ সেন বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এরপরই পুলিশ তাঁকে আটক করে। শনিবার সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই প্রাক্তন সাংসদ এবং বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট হিন্দু নেতার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গত ১৭ আগস্ট থেকে তিনি দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারা সূত্রে খবর, শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রমেশ চন্দ্র সেনের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। তড়িঘড়ি তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে ৯টা ২৯ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান তাঁর মৃত্যু হয়েছে। জেলার ফরহাদ সরকার জানিয়েছেন, প্রাক্তন মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন এবং আগে থেকেই বার্ধক্যজনিত একাধিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

তবে রমেশ সেনের এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলছেন নেটিজেনদের একাংশ। অভিযোগ উঠেছে, একজন বর্ষীয়ান নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবে যে ধরনের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা তাঁর প্রাপ্য ছিল, তা সম্ভবত তিনি পাননি। তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হত্যা-সহ তিনটি মামলা রুজু হয়েছিল। পাঁচবারের নির্বাচিত জন প্রতিনিধি এবং দেশের প্রভাবশালী হিন্দু নেতার এমন করুণ পরিণতি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy