২০২৬ সালের রাজ্য বাজেট পেশ হতেই পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল শিল্পাঞ্চলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। একদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাসিক ভাতা আরও ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রান্তিক এলাকার মহিলাদের মধ্যে খুশির হাওয়া। আসানসোলের চেলিডাঙা এলাকার বাসিন্দা সবিতা দেবীর কথায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জমিয়ে ছেলের টিউশন দিই। এবার টাকা বাড়ায় আরও একটি টিউশন পড়াতে সুবিধা হবে।” অনেক মহিলাই জানিয়েছেন, এই ভাতার ফলে তাঁদের ছোটখাটো হাতখরচের জন্য আর স্বামীর ওপর নির্ভর করতে হয় না।
তবে প্রাপ্তির খুশির মাঝেও জোরালো হয়েছে কর্মসংস্থানের দাবি। রাজ্য সরকার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুব-সাথী’ প্রকল্পে মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে ভাতার চেয়েও বেশি জরুরি স্থায়ী কাজ। স্থানীয় বাসিন্দা ঝুমা বসাক প্রশ্ন তুলেছেন, “ভাতা বাড়লে ভালোই লাগে, কিন্তু বেকারদের কাজের কী ব্যবস্থা হলো? কাজ পেলে আরও ভালো লাগত।”
অন্যদিকে, আইসিডিএস (ICDS) কর্মীদের বেতন ১০০০ টাকা বাড়লেও ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন মিড-ডে মিল কর্মীরা। সোমা দেবীর মতো অনেক মিড-ডে মিল কর্মী উষ্মা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাঁদের বেতন না বাড়ায় তাঁরা হতাশ। বিধানসভা ভোটের আগে এই ‘উপহারের রাজনীতি’ সাধারণ মানুষের মন কতটা জয় করতে পারল, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে আসানসোলের অলিগলিতে।