এনআরএস-এর অবিশ্বাস্য সাফল্য! ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন অস্ত্রোপচারে শিরদাঁড়া জোড়া লাগল কিশোরীর, ফিরল হাঁটার শক্তি

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় ফের এক অভাবনীয় সাফল্যের নজির গড়ল কলকাতার নীলরতন সরকার (এনআরএস) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। শিরদাঁড়ায় যক্ষ্মার সংক্রমণের ফলে হাঁটাচলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে নতুন জীবন দিলেন চিকিৎসকরা। নিউরোসার্জারি, কার্ডিওথোরাসিক এবং অ্যানাস্থেশিয়া—এই তিন বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৯ ঘণ্টার এক অতি জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই কিশোরী ‘টিউবারকিউলার কম্প্রেসিভ মায়েলোপ্যাথি’-তে আক্রান্ত ছিল। তার শিরদাঁড়ার ডি৬ ও ডি৭ কশেরুকা পুঁজে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা হারিয়ে সে পঙ্গু হয়ে পড়ে। নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রফেসর ডা. পার্থসারথি দত্তর নেতৃত্বে চিকিৎসকরা এক দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন। বাঁ দিকের পাঁজর কেটে সাময়িকভাবে ফুসফুস সরিয়ে সেই পুঁজ পরিষ্কার করা হয়। এরপর টাইটেনিয়ামের রড ও স্ক্রু দিয়ে শিরদাঁড়া পুনরায় স্থায়ী করা হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ওয়ান লং ভেন্টিলেশন’। মাত্র ১৩ বছরের এক শিশুকে টানা ৯ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের টেবিলে স্থিতিশীল রাখা ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। ডা. অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায় ও ডা. কেকা পাণ্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যানাস্থেশিয়া দল সেই ঝুঁকি সফলভাবে সামলান। বর্তমানে কিশোরীটি স্থিতিশীল এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। এনআরএস-এর এই সাফল্য প্রমাণ করে দিল যে, সঠিক সমন্বয় থাকলে সরকারি হাসপাতালেও বিশ্বমানের চিকিৎসা সম্ভব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy