বনগাঁর সেই বিতর্কিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রেশ এবার পৌঁছাল আদালতের এজলাসে। গত ২৫ জানুয়ারি বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জ যুবক সংঘের মঞ্চে অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এবার সরাসরি বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি (১৬৪ ধারা) দিলেন অভিনেত্রী। শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত ক্লাব কর্তা তনয় শাস্ত্রীর ওপর চাপ যে আরও কয়েক গুণ বাড়তে চলেছে, তা মিমির এই পদক্ষেপেই স্পষ্ট।
আদালত চত্বর থেকে বেরিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মিমি বলেন, “আমার লড়াইটা মিথ্যার বিরুদ্ধে। আমার নামে যে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তার জবাব দিতেই আমি আজ বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিলাম। সত্যকে বারবার চাপা দেওয়া যায় না।” অভিনেত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, ক্লাবের অন্য সদস্যদের ব্যবহার অত্যন্ত ভালো ছিল, শুধুমাত্র তনয় শাস্ত্রীর অভব্য আচরণই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি, স্টেজ থেকে নেমে আসার পরও অনুষ্ঠান হয়েছে, তাই মিথ্যা প্রচার করে ফায়দা পাওয়া যাবে না।
ঘটনার সূত্রপাত ২৫ জানুয়ারি রাতে, যখন গান গাওয়ার সময় আচমকাই মাইক বন্ধ করে মিমিকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তনয়ের বিরুদ্ধে। সেই রাতেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন মিমি। পুলিশ ইতিমধেই তনয়কে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ নতুন করে শ্লীলতাহানির ধারা যুক্ত করে তনয়কে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ করার আবেদন জানিয়েছে। তনয়ের আইনজীবী দীপাঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, জবানবন্দি নেওয়া তদন্তের একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। তবে মিমির এই কঠোর অবস্থান অভিযুক্তের জেল যাত্রার মেয়াদ বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।