অনলাইন গেমের নেশা আর ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রতি অন্ধ মোহ যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার এক মর্মান্তিক নিদর্শন দেখল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ। তিন বোনের একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ৯ পাতার ডায়েরি এখন তদন্তের প্রধান চাবিকাঠি। সেই ডায়েরির পাতায় পাতায় জড়িয়ে আছে কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ এবং পরিবারের প্রতি তীব্র অভিমান।
তদন্তে জানা গেছে, মৃত তিন বোন কোরিয়ান পপ (K-Pop) এবং কোরিয়ান জীবনধারায় এতটাই মগ্ন ছিল যে, তারা ভারতীয় কাউকে বিয়ে করতেও অস্বীকার করেছিল। ডায়েরিতে লেখা রয়েছে, “আমরা কোরিয়ানদের ভালোবাসি। তোমরা আমাদের কোরিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলে, কিন্তু ওটাই আমাদের জীবন ছিল। তোমরা চেয়েছিলে আমাদের বিয়ে কোনও ভারতীয়র সাথে হোক, যা অসম্ভব।” ডায়েরির এক জায়গায় কান্নার ইমোজি দিয়ে লেখা, “সবটা পড়ো, এখানে সব লেখা আছে।”
ডায়েরিতে উঠে এসেছে বাবার হাতে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগও। “তোমার মারধরের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়,”— বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখা এই লাইনগুলি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। গত দু’বছর ধরে স্কুল যাওয়া বন্ধ ছিল ওই তিন বোনের। বেশিরভাগ সময় তারা মোবাইলে অনলাইন টাস্ক-ভিত্তিক গেমে ডুবে থাকত। সম্প্রতি বাবা-মা তাদের ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বলে অনুমান পুলিশের।
বুধবার গভীর রাতে যখন পরিবারের সবাই ঘুমাচ্ছিলেন, তখন দুই বোন বারান্দা থেকে হাত ধরে ঝাঁপ দেয় এবং তৃতীয় বোন ঠাকুরঘরের জানালা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। ডিসিপি নিমিশ পাতিল জানিয়েছেন, ডায়েরিটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞ এবং ডিজিটাল কার্যকলাপের মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে, কোনও নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন গেম তাদের এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে কি না।