ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি বনাম ক্রেমলিনের জবাব! ভারত কি সত্যিই বন্ধ করছে রুশ তেল আমদানি?

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির আবহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি দাবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে। ট্রাম্পের দাবি, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এই ‘বিস্ফোরক’ দাবির পর এবার মুখ খুলল ভ্লাদিমির পুতিন প্রশাসন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়ে জানানো হয়েছে, ভারত যে কোনও দেশের কাছ থেকে তেল কিনতে স্বাধীন এবং এতে নতুনত্বের কিছু নেই।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই প্রসঙ্গে বলেন, “আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা খুব ভালো করেই জানেন যে রাশিয়া ভারতের একমাত্র তেল সরবরাহকারী দেশ নয়। ভারত বরাবরই বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে আসছে। তাই ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যে আমরা নতুন কিছু দেখছি না।” পেসকভ আরও স্পষ্ট করেছেন যে, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা বার্তা মস্কো পায়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর যখন পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল, তখন থেকেই ভারত রাশিয়ার তেলের বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে ওঠে। বর্তমানে ভারত প্রতিদিন গড়ে ১৫ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা ভারতের মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি। আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিলেও ভারত নিজের জ্বালানি স্বার্থে অনড় থেকেছে।

রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভারত-রাশিয়া হাইড্রোকার্বন বাণিজ্য উভয় দেশের জন্যই লাভজনক এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত জরুরি। ২০২১ সালে যেখানে ভারতের মোট আমদানির মাত্র ০.২ শতাংশ ছিল রুশ তেল, তা বর্তমানে বিশাল আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকার চাপের মুখে মোদী সরকার সত্যিই রাশিয়ার হাত ছেড়ে ভেনিজুয়েলা বা আমেরিকার দিকে ঝুঁকবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক চাপানউতোর এখন তুঙ্গে। তবে আপাতত রাশিয়ার এই ‘নির্লিপ্ত’ প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের দাবিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy