উৎসবের আনন্দ কি তবে শোকের চেয়েও বড়? পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের চাঁইপাট বেলডাঙা গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনায় এমন প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে। পরিবারের এক বয়স্কা সদস্যের মৃত্যু হলেও তাঁর সৎকার না করে, দেহ ৩ দিন ধরে ক্লাবঘরের ফ্রিজারে আটকে রেখে ধুমধাম করে বিয়ে সারলেন বাড়ির সদস্যরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত সোমবার রিতা আলু নামে ওই বৃদ্ধা তাঁর দেওরের ছেলে সৌরেন আলুর আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি। অভিযোগ, বিয়ের অনুষ্ঠান যাতে ভেস্তে না যায়, তাই তড়িঘড়ি তাঁর দেহ স্থানীয় একটি ক্লাবঘরে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। মঙ্গলবার ঘটা করে বিয়ে সারেন সৌরেন এবং বুধবার সকালেই সাড়ম্বরে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এমনকি বুধবার সন্ধেয় প্রীতিভোজ বা বউভাতের অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, মৃতের বড় মেয়ে বাইরে থাকেন, তাঁর আসার অপেক্ষাতেই দেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে গ্রামবাসীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, স্রেফ বিয়ের খরচ এবং আনন্দ মাটি হওয়ার ভয়েই এই অমানবিক কাজ করা হয়েছে। ক্লাবের সদস্যরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সর্বজনীন ক্লাবঘরে এভাবে দেহ রাখা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, বাড়ির লোক বিয়ের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে এলাকার মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না।