দীর্ঘ এক বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে মণিপুরে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলো গণতান্ত্রিক সরকার। বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির মণিপুর ভবনে রাজ্যের ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ৬২ বছর বয়সী বিজেপি নেতা ইয়ামনাম খেমচাঁদ সিং। রাজ্যপাল অজয় ভুল্লা তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান। খেমচাঁদের পাশাপাশি এদিন দুই উপমুখ্যমন্ত্রীও শপথ নিয়েছেন। কুকি সম্প্রদায়ের নেমচা কিপগেন এবং নাগা পিপলস ফ্রন্টের লসি দিখো উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, নেমচা কিপগেন মণিপুরের ইতিহাসে প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী।
২০২৩ সাল থেকে চলা ভয়াবহ মেইতেই-কুকি জাতিদাঙ্গার জেরে গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি ইস্তফা দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। এরপর রাজ্যে জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি জারি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সিঙ্গজামে কেন্দ্রের দু’বারের বিধায়ক খেমচাঁদ সিংয়ের ওপর ভরসা রেখেই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে ঘর গোছাতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।
সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে ৬০ আসনের মণিপুর বিধানসভায় বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিজেপি। এনডিএ জোটে মেইতেই, কুকি ও নাগা—তিন প্রধান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রেখে রাজ্যে শান্তি ও উন্নয়নের বার্তা দিতে চাইছে পদ্মশিবির। লোকসভা নির্বাচনে মণিপুরের দুটি আসনেই হারের পর, খেমচাঁদ সিংয়ের হাত ধরে ড্যামেজ কন্ট্রোল করাই এখন গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।