উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে! ২০২৩ থেকে ২০২৬—টানা চার বছর মহিলা প্রিমিয়ার লিগের (WPL) ফাইনালে দিল্লি ক্যাপিটালস। কিন্তু ট্রফি? জেমাইমা-শেফালিদের ক্যাবিনেট আজও শূন্য। অন্যদিকে, গতবারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ফের একবার তৈরি ইতিহাস গড়তে। আগামিকাল ভদোদরার বিসিএ স্টেডিয়ামে ডব্লিউপিএলের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল।
গুজরাটকে এলিমিনেটরে ৭ উইকেটে উড়িয়ে ফাইনালে পা রেখেছে দিল্লি। এর আগের তিন আসরে সরাসরি ফাইনাল খেললেও এবার এলিমিনেটর জিতে আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিয়েছে জিন্দাল গোষ্ঠীর এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। দিল্লির প্রধান অস্ত্র তাদের বোলিং ব্রিগেড। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীদের তালিকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ২১ বছরের শ্রী চরণী এবং ২৪ বছরের নন্দিনী শর্মা। ব্যাটিংয়ে ভরসা জোগাচ্ছেন লরা উলফার্ট এবং বিধ্বংসী শেফালি ভার্মা।
অন্যদিকে, স্মৃতি মান্ধানার আরসিবি প্রায় এক সপ্তাহ বিশ্রাম নিয়ে সতেজ অবস্থায় মাঠে নামবে। গত বছর পুরুষ আইপিএলে বিরাট কোহলিদের ১৭ বছরের ট্রফি-খরা কেটেছে। এবার মহিলা দলের সামনে সুযোগ দ্বিতীয়বার ট্রফি জয়ের। আরসিবির তুরুপের তাস এখন ইংল্যান্ডের ২৪ বছরের পেসার লরেন বেল। টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই ১২টি উইকেট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনসেশন হয়ে উঠেছেন তিনি। সঙ্গে বাংলার রিচা ঘোষ ও নাদিন ডি ক্লার্কের মতো পাওয়ার-হিটাররা তো আছেনই।
পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে কিন্তু দিল্লি এগিয়ে। ৪টি সিজনে মোট ৯ বার সাক্ষাতে দিল্লি জিতেছে ৬ বার, আর আরসিবি ৩ বার। কিন্তু ট্রফির লড়াই আলাদা। ২০২৪-এর ফাইনালে এই দিল্লিকেই ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আরসিবি। মজার বিষয় হলো, আরসিবির পুরুষ দলও তাদের চতুর্থ ফাইনালে গিয়ে ট্রফির মুখ দেখেছিল। সেই একই সমীকরণে এবার চতুর্থ ফাইনালে দাঁড়িয়ে দিল্লি। ইতিহাস কি শেফালিদের শাপমুক্তি ঘটাবে, নাকি স্মৃতির হাতেই উঠবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট? উত্তর দেবে মাঠের লড়াই।