২০২২ সালের ২০ নভেম্বর। টলিউড তথা শর্মা পরিবারের কাছে এক অভিশপ্ত রাত, যেদিন সব লড়াই থামিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়েছিলেন সবার প্রিয় ‘জিয়ল কন্যা’ ঐন্দ্রিলা শর্মা। বোনকে হারানোর সেই দগদগে ক্ষত আজও শুকায়নি শর্মা পরিবারে। তবে শোকের মেঘ কাটিয়ে মঙ্গলবার রাতে খুশির হাওয়া বইল ঐন্দ্রিলার দিদি ঐশ্বর্যর আইনি বিয়ের আসরে। আর সেই বিশেষ দিনে পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরা দিলেন ঐন্দ্রিলার প্রিয় ‘সব্য’ অর্থাৎ অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী।
পেশায় চিকিৎসক দিব্যজিৎ দত্তর সঙ্গে আইনি বিয়ে সারলেন ঐশ্বর্য। তবে উৎসবের আবহেও প্রতি মুহূর্তে অনুভূত হয়েছে ঐন্দ্রিলার অনুপস্থিতি। দিদি ঐশ্বর্যর বিয়েতে বরের বেশে সব্যসাচীকে দেখার যে স্বপ্ন ঐন্দ্রিলা দেখেছিলেন, তা অপূর্ণ রয়ে গেলেও ঐশ্বর্যর বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়ে রইলেন সব্যসাচী নিজেই। সাদা শার্ট আর নীল ডেনিম—একেবারে সাদামাটা পোশাকে যখন তিনি শর্মা বাড়িতে পা রাখলেন, তখন পরিবেশটাই পাল্টে গেল।
সব্যসাচীকে দেখামাত্রই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে ঐন্দ্রিলার দুই আদরের পোষ্য তোজো এবং বোজো। লেজ নেড়ে তারা কার্যত ঘিরে ধরে তাদের প্রিয় মানুষকে। দীর্ঘক্ষণ ঐন্দ্রিলার পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটান সব্যসাচী। সামাজিক মাধ্যমে এই মিষ্টি ও আবেগপূর্ণ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল হতেই চোখে জল নেটিজেনদের। অনেকেই বলছেন, সম্পর্কের টান যে রক্তের বন্ধনের চেয়েও বড় হতে পারে, সব্যসাচী চৌধুরী তার এক জীবন্ত উদাহরণ।
ঐন্দ্রিলার ছবিকে সাক্ষী রেখেই সম্পন্ন হলো বিয়ের যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া। আবেগপ্রবণ ঐশ্বর্য বলেন, “বোন থাকলে আজ ওর আর সব্যসাচীর বিয়েটাই আগে হতো। আমার বিয়ের সমস্ত পরিকল্পনা তো ওরই করা ছিল। ও থাকলে আজ আমার কোনো চিন্তাই করতে হতো না।” পাশে দাঁড়িয়ে মা শিখা শর্মাও হাহাকার ভরা গলায় বলেন, “ও আমাদের চারপাশেই আছে, সব দেখছে।”
ঐন্দ্রিলার কঠিন লড়াইয়ের দিনগুলিতে সব্যসাচী ছিলেন তাঁর একমাত্র ছায়াসঙ্গী। নিয়তি সেই লড়াইকে জয়ী হতে না দিলেও, ঐন্দ্রিলার পরিবারের সঙ্গে সব্যসাচীর আত্মিক টান যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা আবারও প্রমাণিত হলো। ব্যক্তিগত শোক সরিয়ে অভিনেতা ধীরে ধীরে কাজে ফিরলেও শর্মা পরিবারের অন্দরে তিনি আজও সেই ঘরের ছেলের মতোই আপন। ঐশ্বর্যর নতুন জীবনের এই শুভক্ষণে সব্যসাচীর উপস্থিতি যেন ঐন্দ্রিলারই এক নীরব উপস্থিতির জানান দিয়ে গেল।