কোনো বৈধ্য বা যথাযথ কারণ ছাড়া স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করে আলাদা থাকলে, স্ত্রী কোনোভাবেই ভরণপোষণ বা খোরপোশ দাবি করতে পারেন না। এক ডিভোর্স ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলায় এমনই যুগান্তকারী এবং স্পষ্ট রায় দিল ছত্তিশগড় হাইকোর্ট। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আগামী দিনে এই ধরণের পারিবারিক মামলাগুলিতে নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিলাসপুরের এক বাসিন্দা মহিলা নিম্ন আদালতের (ফ্যামিলি কোর্ট) ভরণপোষণ বাতিলের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি রমেশ সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত জানিয়ে দেয়, ফ্যামিলি কোর্টের রায়ে কোনো আইনি ত্রুটি নেই। বিচারপতিদের মতে, স্বামী যখন দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের (Restitution of Conjugal Rights) আবেদন করেছিলেন, তখন স্ত্রী চাইলে ফিরে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি স্বেচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে অস্বীকার করেন। এই পরিস্থিতিতে ভরণপোষণের দাবি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগ বনাম বাস্তবতা: আদালতে ওই মহিলা অভিযোগ করেছিলেন যে, বিয়ের মাত্র ৪ দিনের মাথায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে একটি গাড়ি এবং ১০ লক্ষ টাকা পণের দাবি করা হয়। এমনকি তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে আদালত সব দিক খতিয়ে দেখে জানায়, শুধুমাত্র আলাদা থাকার অজুহাতে খোরপোশ আদায় করা যায় না, যদি না আলাদা থাকার পেছনে কোনো অকাট্য ও প্রমাণিত কারণ থাকে। স্বেচ্ছায় দাম্পত্য বিচ্ছেদ বজায় রাখলে ভরণপোষণের অধিকার হারাবেন স্ত্রী, এটাই স্পষ্ট করল উচ্চ আদালত।