বলিউডে বিচ্ছেদের খবরের ভিড়ে কিছু মানুষের দাম্পত্য আজও অনুপ্রেরণা দেয়। গ্ল্যামার দুনিয়ার জাঁকজমক যখন অনেক সম্পর্ককে ফিকে করে দেয়, তখন এই অভিনেতার গল্পটা শেখায় কীভাবে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানো যায়। তিনি আর কেউ নন, আজকের বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠী। কিন্তু সাফল্যের এই রঙিন পর্দার পিছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ লড়াই এবং এক জেদি প্রেমের গল্প।
বিয়ের বাড়িতে প্রথম দেখা: ঘটনার সূত্রপাত বহু বছর আগে এক পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে। আত্মীয়স্বজনের ভিড়ে এক সাধারণ তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল এক লড়াকু যুবকের। সেই আলাপ যে ভবিষ্যতে এক অটুট বন্ধনে পরিণত হবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। সেই যুবকটি ছিলেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী। অভিনয়ের জগতে তখন তাঁর নাম-যশ কিছুই নেই। ছোটখাটো কাজ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে তখন দিশেহারা অবস্থা।
পরিবারের বিরোধিতা ও কঠিন সিদ্ধান্ত: রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান হওয়ার দরুণ পঙ্কজের প্রেম করে বিয়ে নিয়ে বাড়িতে ছিল ঘোর আপত্তি। পরিবারের যুক্তি ছিল, অভিনয় পেশার অনিশ্চয়তার মাঝে বিয়ে করলে সংসার চালানো অসম্ভব হবে। কিন্তু পঙ্কজ নিজের সিদ্ধান্তে ছিলেন অনড়। সমস্ত সামাজিক ও পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে তিনি বিয়ে করেন মৃণালিনীকে। পঙ্কজ যখন স্ট্রাগলার, তখন মৃণালিনীই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়েছিলেন, এমনকি নিজের উপার্জন দিয়ে সংসার সামলেছিলেন যাতে পঙ্কজ অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।
লড়াইয়ের ফল যখন সাফল্য: বিয়ের পরও পরিস্থিতি রাতারাতি বদলায়নি। বছরের পর বছর ছোট চরিত্রে অভিনয় করে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু আজ পঙ্কজ ত্রিপাঠী মানেই অভিনয়ের স্বাভাবিকতা আর নিজস্ব ভঙ্গি। তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে মৃণালিনীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এক বড় ভূমিকা পালন করেছে। পঙ্কজের এই জীবনকাহিনি প্রমাণ করে, সঠিক মানুষের হাত ধরলে এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি সৎ থাকলে পৃথিবীর কোনও বাধাই আটকে রাখতে পারে না।