টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই কি কেবল চার-ছক্কার লড়াই? মাঠের উত্তাপের বাইরেও থাকে লড়াই, জেদ আর এক বুক আবেগের গল্প। ২০২৬-এর বিশ্বকাপে এক অদ্ভুত সমীকরণ সামনে এসেছে। ভারতের নীল জার্সি গায়ে না জড়ালেও, বিদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন প্রায় ৪০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। যাঁদের স্বপ্ন ছিল একদিন মেন ইন ব্লু-র হয়ে খেলার, তাঁরাই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদেশের হয়ে নিজেদের প্রমাণ করছেন।
কানাডা না কি ‘মিনি ইন্ডিয়া’? এবারের বিশ্বকাপে ২০টি অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ পরিসংখ্যান দিচ্ছে কানাডা। দলটিতে এক-আধজন নয়, রয়েছেন মোট ১১ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার! অর্থাৎ, কানাডা চাইলে আস্ত একটি ভারতীয় একাদশ মাঠে নামিয়ে দিতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল কানাডাই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলে রয়েছেন ৯ জন ভারতীয়। এছাড়া ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ৭ জন করে ভারতীয় ক্রিকেটার খেলছেন। বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতীয় প্রতিভার এই বিস্তার সত্যিই নজিরবিহীন।
চাকরি সামলে বিশ্বকাপে দাপট: প্রবাসী এই ক্রিকেটারদের অনেকের গল্পই সিনেমার স্ক্রিপ্টকে হার মানাবে। আমেরিকার অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেলের কথাই ধরা যাক। একসময় গুজরাটের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলে সুযোগ না পেয়ে পাড়ি দেন আমেরিকায়। আজ তিনি সেই দেশের ক্রিকেট অধিনায়ক। আবার রয়েছেন সৌরভ নেত্রাভালকর, যিনি পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ল্যাপটপ আর বল হাতে সমান দক্ষতায় লড়াই চালিয়ে গত বিশ্বকাপে রোহিত-বিরাটদের উইকেট নিয়ে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। এবারও তিনি রয়েছেন স্বমহিমায়।
ইতালির জার্সিতে জসপ্রীত: এবারই প্রথম বিশ্বকাপে পা রাখছে ইতালি। আর সেই দলের অন্যতম বড় ভরসা জসপ্রীত সিং। ছোটবেলায় ইতালিতে চলে গেলেও নাড়ির টান আজও ভুলতে পারেননি তিনি। তাঁর মতে, ভারতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে ইতালির হয়ে মাঠে নামাটা তাঁর কাছে চরম আবেগের। ওমান দলের কোচ সুলক্ষণ কুলকার্নি সোজাসাপ্টা জানালেন আসল সত্যিটা— “ভারতে সুযোগ পাওয়া কঠিন, তাই ছেলেরা বিদেশে নিজেদের জমি খুঁজে নিচ্ছে।” স্বপ্নভঙ্গের বিষাদ নয়, বরং বিদেশের মাটিতে ভারতীয় বীরত্বের এই উপাখ্যান এবার বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ।