মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল ভারতের সংসদ। লোকসভার স্পিকারের চেয়ার লক্ষ্য করে কাগজ ছোড়া এবং ‘অশোভন আচরণ’-এর অভিযোগে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-এর আটজন সাংসদকে চলতি অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হলো। এই ঘটনাকে সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে “চরম অপমান” বলে আখ্যা দিয়েছেন খোদ স্পিকার। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই সাংসদদের বহিষ্কারের প্রস্তাব আনলে তা গৃহীত হয়, যার জেরে বুধবার সকাল পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন।
সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেসের হিবি ইডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম টাগোর, গুরজিত সিং অউজলা, কিরণ কুমার রেড্ডি, প্রশান্ত পোডোলে, ডিন কুরিয়াকোস এবং সিপিআই(এম)-এর এস ভেঙ্কটেশন। জানা গেছে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা নিয়ে আলোচনার দাবি তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেই সময় সংসদের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বাধা দেয় শাসকপক্ষ। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে বিরোধীরা ওয়েলে নেমে এসে হইচই শুরু করেন এবং অভিযোগ ওঠে যে, তাঁরা স্পিকারের চেয়ার লক্ষ্য করে নথি ছুড়েছেন।
বিজেপির পক্ষ থেকে গিরিরাজ সিং দাবি করেছেন, এক সাংসদ এমনকি সাধারণ সচিবের টেবিলে উঠে সরকারি নথির ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সাসপেনশনের নির্দেশের বিরুদ্ধে সংসদের মকর দ্বারে কালো পোশাকে বিক্ষোভে শামিল হন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বিরোধী শিবিরের দাবি, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি এবং সেনাপ্রধানের বই নিয়ে সত্য গোপন করতেই সরকার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। রাজধানীর তীব্র শীতেও সংসদের ভেতর ও বাইরে এই টানটান উত্তেজনা এখন জাতীয় রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।





