মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে যেন দুর্যোগের ঘনঘটা। উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একবার বড়সড় আকাশপথের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন রাজ্যের দাপুটে বিজেপি নেত্রী তথা মন্ত্রী পঙ্কজা মুন্ডে। মঙ্গলবার সকালে তাঁর হেলিকপ্টারে ধরা পড়া যান্ত্রিক ত্রুটি ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র রহস্য। অল্পের জন্য পঙ্কজা মুন্ডে রক্ষা পেলেও, বারবার কেন ভিভিআইপিদের বিমানেই গোলযোগ দেখা দিচ্ছে, তা নিয়ে উঠছে হাজারো প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারের উদ্দেশ্যে শম্ভাজিনগর থেকে লাতুরের দিকে রওনা দেওয়ার কথা ছিল পঙ্কজা মুন্ডের। সেই অনুযায়ী হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কপ্টারটি মাটি ছাড়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে পাইলটের তীক্ষ্ণ নজরে আসে একটি গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি। বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না নিয়ে পাইলট তৎক্ষণাৎ উড়ান বাতিল করেন এবং ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। ফলে এক নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান মন্ত্রী।
গত বুধবারই এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। সেই ঘটনার শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি মারাঠা রাজনীতি। অজিত পাওয়ারের সেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কিছু ছিল, তা নিয়ে যখন দেশজুড়ে তদন্ত চলছে, ঠিক সেই সময়েই পঙ্কজা মুন্ডের কপ্টারে এই বিভ্রাট নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে—এটা কি শুধুই কাকতালীয় যান্ত্রিক গোলযোগ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর কারণ রয়েছে?
উড়ান বাতিলের পর পঙ্কজা মুন্ডে তড়িঘড়ি হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসেন এবং তাঁর সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা কপ্টারটি পরীক্ষা করে দেখছেন। হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অজিত পাওয়ারের পরিণতির কথা মাথায় রেখে পঙ্কজার এই ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না প্রশাসন। গোটা মহারাষ্ট্র জুড়ে বর্তমানে ভিভিআইপি মুভমেন্ট এবং বিমান পরিষেবা নিয়ে কড়া নিরাপত্তার দাবি উঠছে।





