অনেকেই মনে করেন ত্বকে বলিরেখা বা বয়সের ছাপ পড়লে তখন দামি কোনো ‘মিরাকেল সিরাম’ ব্যবহার করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান ও নতুন গবেষণা বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের বার্ধক্য রোধ করার লড়াই ৩০ বা ৩৫-এ নয়, বরং শুরু হওয়া উচিত ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সেই। এই বয়সে কলেজ জীবন বা ক্যারিয়ারের চাপে আমরা ত্বকের প্রতি যে অবহেলা করি, তার চরম মূল্য দিতে হয় কয়েক বছর পর।
কেন ২০-এর দশকই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? এই বয়সে আমাদের ত্বক প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর কোলাজেন তৈরি করে। কিন্তু সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মি, দূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন সেই কোলাজেনকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন SPF 30+ সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়া এবং বলিরেখা পড়ার প্রবণতা প্রায় ৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব। যারা কুড়িতেই সানস্ক্রিন, ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজারের মতো সাধারণ অভ্যাস গড়ে তোলেন, তাঁদের ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ আসে অনেক দেরিতে।
অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য ও ত্বকের যোগসূত্র: শুধু বাইরের প্রসাধন নয়, ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতে শরীরের ভেতরকার যত্নও সমান জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বক নিজেকে মেরামত করতে পারে না। আবার জলশূন্যতা ও মানসিক চাপ কোলাজেন ভেঙে ফেলে ত্বককে নিস্তেজ করে দেয়। জেন-জেড এবং মিলেনিয়ালদের মধ্যে বর্তমানে স্কিন কেয়ার নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও, চিকিৎসকদের মতে মার্কেটিংয়ের ফাঁদে না পড়ে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলাই দীর্ঘমেয়াদী লাভের চাবিকাঠি। মনে রাখবেন, আজকের অবহেলাই কিন্তু কালকের বলিরেখা!