ভোটের আগে মহাধামাকা! নিউটাউনের হোটেলে সেলিম-হুমায়ুন রুদ্ধদ্বার বৈঠক, তবে কি নয়া জোট?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড়! রাজারহাট নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বামফ্রন্ট নেতা মহম্মদ সেলিম এবং ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক (অধুনা বিদ্রোহী মেজাজে থাকা) হুমায়ুন কবীরের মধ্যে দীর্ঘ এক ঘণ্টার গোপন বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। তবে কি ভোটের আগেই তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে চলেছে সিপিআইএম-হুমায়ুন জোট?

বৈঠকের নেপথ্যে কী? সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার নিউটাউনের ওই হোটেলে দুই নেতার মধ্যে আসন সমঝোতা এবং ভোটের সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে হুমায়ুন কবীর অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তাঁদের আলোচনা সদর্থক হয়েছে। অন্যদিকে, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। সেলিম বলেন, “আমি মূলত ওঁর রাজনৈতিক অভিপ্রায় এবং উদ্দেশ্য জানতেই এই আলোচনায় বসেছিলাম।” জোটের বিষয়ে সরাসরি সিলমোহর না দিলেও সেলিম জানিয়েছেন, হুমায়ুন কী করতে চান তা তিনি শুনেছেন এবং এখন বিষয়টি দলের অন্দরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তৃণমূল ও বিজেপির কটাক্ষ: এই হাই-প্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই সরব হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বৈঠককে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, ভোটের আগে প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতেই হুমায়ুন কবীর এই ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছেন। পিছিয়ে নেই বিজেপিও। পদ্ম শিবিরের মতে, রাজ্যে বিজেপিকে রুখতে বাম ও জনবিচ্ছিন্ন নেতারা মরিয়া হয়ে একজোট হওয়ার চেষ্টা করছেন।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণ: রাজ্য রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীর বরাবরই তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ও স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, সেলিম এখন বামেদের পুনরুত্থানের প্রধান মুখ। এই দুই মেরুর নেতার একাসনে বসা যে মুর্শিদাবাদসহ গোটা রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন প্রশ্ন একটাই— আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির পর কি আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এই জোটের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করবে? নজর থাকবে সেদিকেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy