পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় তথ্যের অসঙ্গতি বা ‘এসআইআর’ (SIR) বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ হলো। এতদিন এই ইস্যুতে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা সরব হলেও, এবার খোদ প্রথিতযশা কবি জয় গোস্বামী দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। কবির এই পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— তবে কি ‘এসআইআর’ ইস্যুতে এবার মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই দাঁড়াচ্ছেন বাংলার বুদ্ধিজীবীরা?
ঘটনাটি কী? নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া তালিকায় জয় গোস্বামী ও তাঁর মেয়ের নামে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের অমিল থাকায় কবিকে সশরীরে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। গত ২ জানুয়ারি তিনি প্রয়োজনীয় নথিও দেখিয়েছেন। তবুও এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের যৌক্তিক অমিল নিয়ে সমস্যা মেটেনি। কবির আইনজীবী আদালতে জানান, বাংলায় পদবির বানানের তফাতে (যেমন মুখার্জী ও মুখোপাধ্যায়) বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং কমিশন আধার কার্ডকেও পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে।
বিরক্ত প্রধান বিচারপতি শুনানি চলাকালীন একের পর এক নতুন আবেদন (IA) জমা পড়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেন, “প্রতিদিন নতুন নতুন আবেদন জমা পড়ছে, আসলে কি পুরো প্রক্রিয়াটাকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে?” তবে কবির আইনজীবী বাংলার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পূর্বনির্ধারিত দিনেই পশ্চিমবঙ্গের ‘এসআইআর’ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
ব্রাত্য বসুর কটাক্ষ জয় গোস্বামীকে শুনানিতে ডাকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু কড়া ভাষায় নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে বলেন, “আমার মনে হয় আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকলেও তাঁকে ‘এসআইআর’-এর লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো।” সাহিত্যিক থেকে সাধারণ মানুষ—ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এই হয়রানি নিয়ে সরব এখন গোটা বাংলা।