২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই ফের একত্রিত হলেন দেশের বিজেপি বিরোধী রাজনীতির দুই হেভিওয়েট মুখ। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একদিকে যেমন তিনি ‘দিদি’র নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করলেন, তেমনই অন্যদিকে ভোটচুরি সংক্রান্ত অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়েও নিজের রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিলেন মুলায়ম-পুত্র।
মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ অখিলেশ: রাজ্যে চলমান এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং তার মাঝেই কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি-র অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়েছেন অখিলেশ যাদব। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করে বিরোধীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে অখিলেশ বলেন, “দিদিই একমাত্র নেত্রী যিনি বিজেপিকে পরাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন। আমরা ওঁর পাশে আছি।”
ভোটচুরি ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন: এদিন সংবাদমাধ্যমের একাংশ অখিলেশকে লক্ষ্য করে ‘ভোটচুরি’ সংক্রান্ত প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। প্রশ্ন তোলা হয় উত্তরপ্রদেশ ও বাংলার নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। হঠাত ধেয়ে আসা এই প্রশ্নে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ালেও অত্যন্ত শান্ত মেজাজে তা সামাল দেন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। তিনি পাল্টা দাবি করেন, বিজেপিই আসলে ভোটযন্ত্র নিয়ে কারচুপি করে এবং সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার করে জয়ী হতে চায়। মমতার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানান, ২০২৬-এ বাংলার মানুষই বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেবে।
নজরে ২০২৬-এর জোট: রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অখিলেশ ও মমতার এই সাক্ষাৎ স্রেফ সৌজন্যমূলক নয়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক ফ্রন্ট গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই আলোচনা। ইডি ও সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ঢাল করে বিজেপি যেভাবে চাপ সৃষ্টি করছে, তার মোকাবিলা করতে দুই নেতাই একমত হয়েছেন। এখন দেখার, দিল্লির রাজনীতিতে এই দুই নেতার বন্ধুত্ব আগামি দিনে কী প্রভাব ফেলে।