সরস্বতী পুজোর আনন্দের মাঝেই মর্মান্তিক রক্তক্ষরণ নদীয়ার তেহট্টে। এক টোটোচালককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল এক বাইকচালক ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। মৃত ব্যক্তির নাম শক্তি হালদার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহট্টের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উৎসবের আবহে এমন নৃশংস ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার রাতে নিশ্চিন্তপুর এলাকা থেকে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে সরস্বতী প্রতিমা দর্শনে বেরিয়েছিলেন শক্তি হালদার। পথে এক মোটরসাইকেল আরোহীর সঙ্গে তাঁর সামান্য বচসা হয়। অভিযোগ, সেই তুচ্ছ বিবাদ মিটে যাওয়ার বদলে চরম আকার ধারণ করে। মোটরসাইকেল চালক ফোন করে তার দলবলকে সেখানে ডেকে আনে। এরপরই শক্তি হালদারের ওপর চড়াও হয় একদল যুবক।
মর্মান্তিক মৃত্যু: অভিযোগ, সবার সামনেই টোটোচালককে বেধড়ক মারধর করা হয়। লাথি, ঘুসি ও ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। যাত্রীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও উন্মত্ত জনতাকে আটকানো যায়নি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সারারাত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশি তৎপরতা ও আতঙ্ক: তেহট্ট থানায় ইতিমধ্যেই পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তবে এই নিশ্চিন্তপুর এলাকায় গণপিটুনির ঘটনা এই প্রথম নয়। কয়েক মাস আগে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এখানে গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল, যার রেশ এখনও কাটেনি। ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে ওই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।