সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ঘোষিত পদ্ম সম্মান কি কেবল কৃতিত্বের স্বীকৃতি, নাকি আসন্ন নির্বাচনের রণকৌশল? ২০২৬-এর পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা প্রকাশের পর এই প্রশ্ন তুলে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করল কংগ্রেস। ৫৩ বছর বয়সী কংগ্রেস নেতা প্রবীণ চক্রবর্তীর দাবি, এই সম্মানকে এখন নির্বাচনের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি সরকার। এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) তথ্য শেয়ার করে তিনি দাবি করেছেন, এ বছর মোট ১২৫ জন (সরকারি হিসেবে ১৩১) প্রাপকের মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশই সেই সব রাজ্য থেকে এসেছেন, যেখানে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে।
প্রবীণ চক্রবর্তীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অসম, কেরল, পুদুচ্চেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই পাঁচটি রাজ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৮ শতাংশ বাস করেন। অথচ এ বছর পদ্ম পুরস্কারের বড় অংশ অর্থাৎ ৩৭ শতাংশই দেওয়া হয়েছে এই রাজ্যগুলিতে। কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, যোগ্যতার চেয়েও নির্বাচনী গুরুত্ব বিচার করেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই বিতর্কে সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরমও। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যদি ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ হত, তাহলে সরকারের পক্ষে এই তালিকা তৈরি করা খুব কঠিন হয়ে পড়ত। এখন কাজটা অনেক সহজ, শুধু নির্বাচনী রাজ্যগুলো বেছে নিলেই হল।”
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর এপ্রিল মাসেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। এই আবহে বাংলা থেকে এবার ১১ জন কৃতি ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। তালিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ‘ইন্ডাস্ট্রি’ থেকে শুরু করে নকশিকাঁথা শিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় কিংবা চিকিৎসক সরোজ মণ্ডলের নাম থাকলেও, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে বণ্টনের সমীকরণ নিয়ে। গত বছরের তুলনায় বাংলার প্রাপকের সংখ্যা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই বাংলার ঝুলিতে এবার কোনও পদ্মবিভূষণ বা পদ্মভূষণ না থাকাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষের আবেগ ছুঁতে এবং ভোটব্যাঙ্ক পোক্ত করতেই মোদী সরকার পুরস্কারের এই ‘ইলেকটোরালাইজেশন’ বা নির্বাচনীকরণ করছে।