তারিখটা ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস। রাজধানী দিল্লির কর্তব্য পথে যখন সামরিক শৌর্য প্রদর্শিত হচ্ছে, ঠিক তখনই ইতিহাস সৃষ্টি হল ছত্তিশগড়ের রক্তস্নাত জনপদ বস্তারে। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হলেও এবং ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হলেও, বস্তারের ৪৭টি গ্রাম আজ প্রথমবারের মতো তেরঙা পতাকার সাক্ষী থাকল। দশকের পর দশক যে মাটি মাওবাদী এবং নকশালদের রক্তচক্ষুর নিচে ছিল, আজ সেখানে স্বাধীন ভারতের জয়ধ্বনি ধ্বনিত হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, বিজাপুর, নারায়ণপুর এবং সুকমা জেলার মোট ৪৭টি গ্রামে আজ ধুমধাম করে পালন করা হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং ছত্তিশগড় থেকে মাওবাদী শাসনের অবসানের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। গত দুই বছরে এই অঞ্চলে ৫৯টি নতুন নিরাপত্তা ক্যাম্প তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিরলস অভিযানে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে অতিবামপন্থীরা। বুলেটের বদলে আজ সেখানে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে প্রশাসন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লাল সন্ত্রাস দমনে কড়া অবস্থান নিয়েছে। শুধু সামরিক অভিযান নয়, স্থানীয় মানুষকে উন্নয়নের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে একের পর এক পদক্ষেপ করা হয়েছে। গত বছর ৫৩টি গ্রামে এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, আর এ বছর তালিকায় যুক্ত হল আরও ৪৭টি গ্রাম। আজ ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে যখন ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তির থিমে দেশ মেতেছে, তখন বস্তারের এই দৃশ্য প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে এক বাড়তি পাওনা। দিল্লির জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাঝেও বস্তারের এই নিঃশব্দ বিপ্লব আজ ভারতের ঐক্য ও সংহতির এক অনন্য দলিল হয়ে রইল।