আজ ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবস। ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবের মুহূর্ত। দিল্লির কর্তব্য পথে যখন তেরঙা পতাকা সগৌরবে উড়ছে, তখন গোটা বিশ্বের নজর ভারতের সামরিক শক্তি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের দিকে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উপস্থিতিতে এবারের কুচকাওয়াজ কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং আত্মনির্ভর ভারতের এক শক্তিশালী বার্তা। এ বছরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন। এছাড়াও গ্যালারিতে থাকছেন ১০,০০০ বিশেষ অতিথি, যার মধ্যে কৃষক থেকে বিজ্ঞানী এবং ক্রীড়াবিদ—সব স্তরের সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এই উৎসবকে ‘জন-গণ-মন’-এর উৎসবে পরিণত করেছে।
এবারের কুচকাওয়াজের মূল আকর্ষণ হল ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। এই কালজয়ী গান কীভাবে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছিল, তা থিমের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু এই ঐতিহ্যের পাশাপাশি এবারের বিশেষ চমক হল ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিক রণকৌশল। এই প্রথমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে নয়া ‘ভৈরব’ লাইট কম্যান্ডো ব্যাটেলিয়ন এবং ‘শক্তিবান’ রেজিমেন্ট যোগ দিচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রের আধুনিক বিন্যাস প্রদর্শনের মাধ্যমে ভারতীয় সেনা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রদর্শনীতে দেখা যাচ্ছে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আর্মার্ড লাইট স্পেশালিস্ট ভেহিকল এবং হাই মোবিলিটি রিকনেসান্স ভেহিকল। ৬১তম অশ্বারোহী বাহিনীর সৈন্যরা এবার সম্পূর্ণ যুদ্ধ পোশাকে হাজির হয়ে এক রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবারের কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে রোবোটিক কুকুর এবং চালকবিহীন যুদ্ধযান, যা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের রূপরেখা তুলে ধরছে। মাটির বুক চিরে যখন T-90 ভীষ্ম এবং অর্জুন যুদ্ধ ট্যাঙ্ক এগোচ্ছে, তখন আকাশপথ কাঁপিয়ে গর্জন করছে অ্যাপাচি AH-64E এবং লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার।
আকাশপথে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হল ‘সিন্দুর’ ফর্মেশন। অপারেশন সিন্দুর-এর সাফল্যের স্মারক হিসেবে রাফাল, সুখোই-৩০, মিগ-২৯ এবং জাগুয়ার যুদ্ধবিমানগুলি আকাশে নিখুঁত কারুকার্য প্রদর্শন করছে। ব্রহ্মোস মিসাইল সিস্টেম এবং দেশীয় ‘সূর্যাস্ত্র’ ইউনিভার্সাল রকেট লঞ্চার ভারতের দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করছে। HAL-এর রুদ্র হেলিকপ্টার এবং সশস্ত্র অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টারের কৌশলগুলি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজকের এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ স্পষ্ট করে দিল, ভারত এখন আর কেবল আমদানিকারক নয়, বরং সামরিক প্রযুক্তিতে বিশ্বজয়ের পথে অগ্রসর।