ভারত আজ তার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের অপেক্ষায়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর মাহাত্ম্য তুলে ধরলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, তা রাষ্ট্রপতির কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দেশপ্রেমের ঐশ্বরিক সুর
রাষ্ট্রপতি মুর্মু এদিন বলেন, “বন্দে মাতরম গানটি ভারত মাতার ঐশ্বরিক রূপের প্রতি একটি গভীর প্রার্থনা। এটি প্রতিটি ভারতীয়র হৃদয়ে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকেই এই গানের ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে এই গানটি কীভাবে বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল, সে কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।
ভাষার সীমানা ছাড়িয়ে জাতীয়তাবাদ
ভাষণে রাষ্ট্রপতি তুলে ধরেন বন্দে মাতরমের সর্বভারতীয় রূপের কথা:
-
সুব্রহ্মণ্য ভারতী: মহান তামিল কবি ‘বন্দে মাতরম ইয়েনবোম’ রচনার মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতে এই ভাবনা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
-
ঋষি অরবিন্দ: তিনি এই অমর সৃষ্টির ইংরেজি অনুবাদ করে বিশ্বদরবারে ভারতের আত্মিক শক্তিকে তুলে ধরেছিলেন। রাষ্ট্রপতি যোগ করেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানটি আমাদের গীতিময় জাতীয় প্রার্থনা।”
কর্তব্য পথে বিশেষ প্রদর্শনী
এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে ‘বন্দে মাতরম’-কে ঘিরে থাকছে বিশেষ আয়োজন। ১৯২৩ সালে তেজেন্দ্র কুমার মিত্রের আঁকা শ্লোকগুলির চিত্ররূপ সোমবার ‘ভিউ-কাটার’ হিসেবে কর্তব্য পথে প্রদর্শিত হবে। প্যারেডের শেষে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা বিশাল ব্যানার উন্মোচনের সাথে সাথে আকাশে ওড়ানো হবে তেরঙা বেলুন।
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার দিনটিকে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “সংবিধানই আইনের শাসন এবং ভারতীয়দের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে স্ব-শাসন সম্পূর্ণ করেছিল।” বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতির এই বার্তা নতুন করে জাতীয়তাবাদের জোয়ার এনেছে দেশজুড়ে।