কংগ্রেসের অন্দরে এবার সরাসরি সংঘাতের সুর! পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারতের সামরিক পদক্ষেপ বা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে নিজের বিতর্কিত অবস্থান থেকে এক চুলও সরতে নারাজ বর্ষীয়ান নেতা শশী থারুর। শনিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের স্বার্থে তিনি যে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন, তার জন্য দলের কারো কাছে ক্ষমা চাইবেন না।
কী এই ‘অপারেশন সিঁদুর’ বিতর্ক?
পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারানোর পর শশী থারুর একটি সংবাদপত্রে কলাম লিখেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পাকিস্তানকে এর যোগ্য জবাব দিতে হবে এবং এই অন্যায় শাস্তি ছাড়া ছেড়ে দেওয়া যায় না।
-
দলের আপত্তি: কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই সময় থারুরের এই ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন।
-
বিজেপি ঘনিষ্ঠতার ছোঁয়া? এমনকি সরকারের পাঠানো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলেও থারুর শামিল হয়েছিলেন, যেখানে রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই নিয়েই দলের অন্দরে থারুরকে নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়।
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ‘শীতল যুদ্ধ’?
সম্প্রতি কোচিতে কংগ্রেসের একটি অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে থারুরের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। দেখা যায়, রাহুল গান্ধী মঞ্চে প্রবেশ করে অন্যান্য নেতাদের শুভেচ্ছা জানালেও থারুরকে কার্যত ‘উপেক্ষা’ করেছেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে দীপা দাশমুন্সি বা শফি পারামবিলরা দাবি করেছেন যে, থারুরের সঙ্গে নেতৃত্বের কোনো বিরোধ নেই, কিন্তু থারুরের আজকের মন্তব্য অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
থারুরের সাফাই: “নীতিগত অমিল হতেই পারে”
শশী থারুর আজ সংবাদ সংস্থাকে বলেন:
“আমি সংসদে কখনোই কংগ্রেসের কোনো অবস্থান লঙ্ঘন করিনি। একমাত্র পহেলগাঁও হামলার পর আমি বলেছিলাম— ‘হিট হার্ড, হিট স্মার্ট’। আমি আজও মনে করি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দেওয়া উচিত ছিল। এর জন্য আমি ক্ষমা চাইব না।”
কোচির বৈঠক এড়িয়ে থারুরের তিরুবনন্তপুরমে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং বন্দে ভারত ট্রেনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি তাঁর ও কংগ্রেস হাইকমান্ডের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।