২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এবার পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ভিন রাজ্য থেকে তৃণমূল সরকারকে কড়া আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা। মধ্যপ্রদেশের সিটি বেঙ্গলি ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, বাঙালিরা এখন আর নিজের রাজ্যেই সুরক্ষিত নন।
নাড্ডার ‘বাঙালি’ তাস: পশ্চিমবঙ্গ বনাম মধ্যপ্রদেশ
মধ্যপ্রদেশের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে নাড্ডা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তোপ দেগে বলেন:
-
নিরাপত্তার অভাব: “পশ্চিমবঙ্গের থেকে মধ্যপ্রদেশে বাঙালিরা অনেক বেশি সুরক্ষিত। যে পশ্চিমবঙ্গ এক সময় দেশকে নেতৃত্ব দিত, আজ তারা বিপদে।”
-
পরিবর্তনের ডাক: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলার ঐক্য ও অখণ্ডতা বাঁচাতে সারা দেশের উচিত পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এক প্রকার মধ্যপ্রদেশের মাটি থেকেই বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিলেন এই বিজেপি নেতা।
পাল্টা ময়দানে অভিষেক: ‘ওয়ার রুম’ নিয়ে কড়া বার্তা
নাড্ডার আক্রমণের দিনই রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর নিশানায় ছিল নিজের দলেরই সাংসদ ও বিধায়করা। ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন:
-
জেগে উঠুন: “যাঁরা ‘ধীরে চলো’ নীতিতে চলছেন, স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে জেগে উঠুন। হাতে মাত্র ৩ মাস সময় আছে।”
-
পকেটের টাকা খরচ করুন: অনেক এলাকায় ‘ওয়ার রুম’ কাজ করছে না দেখে ক্ষুব্ধ অভিষেক নির্দেশ দিয়েছেন, প্রয়োজনে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে ওয়ার রুম চালাতে হবে।
-
সশরীরে বুথে: সাংসদদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংসদে কম গিয়ে এলাকায় বেশি সময় দিতে। ১ কোটি ৬৮ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে কর্মীদের।
হাতিয়ার ‘এসআইআর’ (SIR)
ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষই সম্মুখসমরে। বিজেপি যেখানে একে শুদ্ধিকরণ বলছে, তৃণমূলের দাবি— বিজেপি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের হয়রান করতে চেয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে রুখে দেওয়া গেছে। অভিষেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিটি ‘হিয়ারিং’-এর ওপর নজর রাখা হবে এবং হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট নিয়ে প্রয়োজনে আদালতে যাবে তৃণমূল।