সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবস। তেরঙা পতাকায় সেজে উঠবে গোটা দেশ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরের ‘ফুসফুস’ বলে পরিচিত ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানের গুরুত্ব কেবল একটি প্যারেড গ্রাউন্ড হিসেবে নয়, বরং ভারতের স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ বা ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সূতিকাগার হিসেবে আজও অমলিন।
মঙ্গল পাণ্ডের আগে বহরমপুরের গর্জন
ইতিহাসের পাতায় আমরা ব্যারাকপুর এবং মঙ্গল পাণ্ডের নাম শুনলেও, ঐতিহাসিকরা জানাচ্ছেন বিদ্রোহের আসল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বলেছিল বহরমপুরের এই ময়দানেই। ১৮৫৭ সালের ২৬ জানুয়ারি ব্রিটিশদের অন্যায় শোষণ এবং এনফিল্ড রাইফেলের টোটা নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল বহরমপুর সেনা ছাউনিতে। এখান থেকেই বিদ্রোহের সেই ঢেউ প্রথমে ব্যারাকপুর এবং পরে গোটা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। মঙ্গল পাণ্ডে যে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন, তার নেপথ্যে ছিল বহরমপুর সেনা ছাউনির জওয়ানদের অনুপ্রেরণা।
পলাশী থেকে ব্রিটিশ ক্যান্টনমেন্ট
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর বাংলার ভাগ্যাকাশে যে অন্ধকার নেমে এসেছিল, তা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিল এই ময়দানই। ১৭৮৬ সালে মুর্শিদাবাদ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর, ইংরেজরা নবাবদের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য এই ব্যারাক স্কোয়ারের ১২০ বিঘা জমির ওপর তৈরি করেছিল বিশাল এক ক্যান্টনমেন্ট।
ইতিহাসের সাক্ষী আজও বর্তমান
বর্গাকার এই ময়দানটি ঘিরে ব্রিটিশ স্থাপত্যের নিদর্শন আজও স্পষ্ট। ময়দানের চারদিকে রয়েছে চারটি প্রাচীন কামান, যা আজও ব্রিটিশদের দর্পচূর্ণ হওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। ময়দান সংলগ্ন এলাকায় আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে বীর বিপ্লবী মঙ্গল পাণ্ডের মূর্তি।
আগামী সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের সময় যখন বিউগল বাজবে, তখন সেই সুরের মাঝে প্রতিধ্বনিত হবে ১৮৫৭-র সেই অসমসাহসী জওয়ানদের বীরত্বগাঁথা। ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসকে বুকে নিয়ে আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার।