ভোটার তালিকায় বড় চুরির পর্দাফাঁস? SIR প্রক্রিয়ায় অশান্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধোনা দিলীপের

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বর্তমানে সবথেকে বড় চর্চার বিষয় ‘ভোটার তালিকা সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR)। আর এই ইস্যুতেই এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানালেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস গত কয়েক বছরে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় ‘চুরি’ করেছে এবং সেই ভুয়ো ভোটের জোরেই তারা ক্ষমতা ধরে রেখেছে।

নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর রহস্য

দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে হারেন আর ভবানীপুরে জেতেন? তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী:

  • নন্দীগ্রামের হার: দিলীপের দাবি, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তার কারণে তৃণমূল সেখানে ‘ছাপ্পা’ বা ভুয়ো ভোট দিতে পারেনি। তাই সেখানকার মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে “কান মুলে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে”।

  • ভবানীপুরের জয়: দিলীপের অভিযোগ, ভবানীপুরে প্রায় সাড়ে ৪৪ হাজার ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকায় ঢোকানো হয়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়ায় এখন সেই নামগুলোই ধরা পড়ছে। তাঁর দাবি, এই বিপুল পরিমাণ ভুয়ো ভোটারই ভবানীপুরে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বাড়িয়েছিল।

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ

রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি হচ্ছে, তার জন্য সরাসরি তৃণমূলকে দায়ী করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “তৃণমূল ভয় পেয়েছে। কারণ তারা জানে, তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটার ও অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ গেলে ২০২৬-এ তাদের জেতা অসম্ভব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে তারা নাম বাদ না দেয়।

দিলীপের হুঁশিয়ারি

রানাঘাটের এক সভা থেকে দিলীপ ঘোষ সাফ জানান যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে বুথের ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। ফলে বন্দুক উঁচিয়ে বা ভোটারদের ভয় দেখিয়ে আর ভুয়ো ভোট দেওয়া যাবে না। তাঁর মতে, এসআইআর প্রক্রিয়াই হবে তৃণমূলের পতনের প্রথম ধাপ।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যেই রাজ্যে ১৫ লক্ষেরও বেশি মৃত ভোটারের হদিশ মিলেছে। এই পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করেই এখন ময়দানে নেমেছেন দিলীপ ঘোষের মতো বিজেপি নেতারা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy