রাজনৈতিক হিংসার উত্তাপে ফুটছে জেলা। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত বিজেপি নেতা তাপস বারিকের বাড়িতে গিয়ে সরাসরি শাসক দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুধু আক্রান্ত নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবরই নিলেন না, বরং তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের বিরাট আশ্বাসও দেন তিনি।
আক্রান্তের পাশে শুভেন্দু: কী ঘটল এদিন?
শনিবার বিকেলে মেদিনীপুরের আক্রান্ত বিজেপি নেতা তাপস বারিকের বাসভবনে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, শাসক দলের হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছে নেতার পরিবার। পরিবারের সদস্যদের চোখে জল দেখে আবেগী হয়ে পড়েন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার করে লড়াই থামানো যাবে না। তাপস বারিক একা নন, তাঁর পাশে গোটা দল এবং খোদ বিরোধী দলনেতা আছেন।”
শাসক দলকে “ধুয়ে দিলেন” বিরোধী দলনেতা
বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মেজাজ হারান শুভেন্দু। তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে তাঁর আক্রমণাত্মক বক্তব্য:
-
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: শুভেন্দু অভিযোগ করেন, “রাজ্যের পুলিশ এখন সাধারণ মানুষের রক্ষক নয়, তৃণমূলের ক্যাডারে পরিণত হয়েছে। চোরদের পাহারা দেওয়া আর বিজেপি কর্মীদের ফাঁসানোই এখন তাদের প্রধান কাজ।”
-
আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি: তিনি সাফ জানান, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত একজনকেও রেয়াত করা হবে না। দলের লিগ্যাল সেল সবরকম পদক্ষেপ নেবে এবং প্রতিটি মারের হিসাব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেওয়া হবে।
-
ভোটের আগে সন্ত্রাস: আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
বিরাট প্রতিশ্রুতি ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানো
শুভেন্দু অধিকারী আক্রান্ত নেতার পরিবারকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, পরিবারের চিকিৎসা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার সব দায়িত্ব তাঁর। তিনি আরও জানান, বিজেপি কর্মীদের রক্ত বৃথা যেতে দেবেন না। তাঁর এই সফর ঘিরে এদিন এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুভেন্দুর এই সফরকে কেন্দ্র করে মেদিনীপুরের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বলে দাবি করেছে।