ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে উধাও নেতাজি! জানুন সেই রোমহর্ষক ‘মহানিষ্ক্রমণ’-এর ঘটনা?

আজ ২৩শে জানুয়ারি। ভারতমাতার বীর সন্তান, দেশনায়ক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী। যাঁর হুঙ্কারে একদা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত নড়ে গিয়েছিল, যাঁর একটি ডাকে আসমুদ্র হিমাচল আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ত, আজ সেই মহান বিপ্লবীর জন্মদিন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নেতাজি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁর তেজ আর রণকৌশলের কাছে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগও বারবার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

১৯৪০ সাল। স্বাধীনতা আন্দোলনের অপরাধে নেতাজিকে জেলবন্দি করে ইংরেজ সরকার। কিন্তু কারান্তরালে থেকেও তাঁকে দমানো যায়নি। একটানা সাত দিন অনশন করার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ব্রিটিশরা তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তবে শর্ত ছিল একটাই— তাঁকে এলগিন রোডের বাড়িতে গৃহবন্দি থাকতে হবে। কড়া নিরাপত্তারক্ষী আর সাদা পোশাকের গোয়েন্দাদের নজরদারিতে থাকা সেই বাড়ি থেকে পালানো ছিল কার্যত অসম্ভব। কিন্তু নেতাজির কাছে অসম্ভব বলে কিছু ছিল না।

১৯৪১ সালের ১৭ই জানুয়ারি। এক কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে রচিত হয় ইতিহাসের সেই বিখ্যাত ‘মহানিষ্ক্রমণ’। ভাইপো শিশির কুমার বসুর সহায়তায় তৈরি হয় নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট। মহম্মদ জিয়াউদ্দিনের ছদ্মবেশ ধরে দীর্ঘ দাড়ি নিয়ে গাড়ি চেপে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। ব্রিটিশদের বিভ্রান্ত করতে নেতাজির বিছানায় তখন শুয়েছিলেন তাঁর সেজো দাদার মেয়ে ইলাদেবী। পুলিশ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে তাদের নাকের ডগা দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন ভারতের সবথেকে কাঙ্খিত বিদ্রোহী।

গোমো স্টেশন থেকে কালকা মেলে চেপে পেশোয়ার, তারপর আফগানিস্তান ও রাশিয়া হয়ে তিনি পৌঁছে যান জার্মানি। সেখান থেকেই শুরু হয় আজাদ হিন্দ ফৌজের সেই ঐতিহাসিক লড়াই। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, স্বাধীনতার এত বছর পরও নেতাজির মৃত্যু রহস্যের জট ছাড়ানো সম্ভব হয়নি। কেউ বিশ্বাস করেন তাইহকু বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে, আবার কেউ আজও বিশ্বাস করেন তিনি ছদ্মবেশে ‘গুমনামি বাবা’ হয়ে ভারতে ফিরেছিলেন। সেই সত্য আজও ধোঁয়াশায় ঢাকা থাকলেও, দেশনায়কের আদর্শ আজও কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে অমলিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy