আর্থিক বছর শেষ হতে বাকি আর মাত্র দু’মাস। কিন্তু কলকাতা পুরনিগমের ভাঁড়ারের হাল ফেরাতে যে পরিমাণ রাজস্ব প্রয়োজন, তা এখনও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকটা দূরে। এই পরিস্থিতিতে সম্পত্তি কর আদায়ে ‘কেস টু কেস’ ফাইল দেখে পাই-পয়সা বকেয়া বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বৃহস্পতিবার পুরনিগমের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আধিকারিকদের এই কড়া নিদান দিয়েছেন তিনি।
ভাড়াটের কাঁধেই করের দায়?
শহরে এমন অনেক বাড়ি রয়েছে যেখানে মালিকের দাবি— ভাড়াটিয়া তাঁকে নিয়মিত ভাড়া দিচ্ছেন না, তাই তিনি পুরনিগমকে সম্পত্তি কর দিতে পারছেন না। এবার এই সমস্যার সমাধানে মেয়র এক অভিনব পথ বাতলেছেন। তিনি জানান, যদি মালিক কর না দেন, তবে ভাড়াটিয়াকেই ‘পার্সন লায়াবেল’ হিসেবে গণ্য করে সরাসরি তাঁর নামেই করের বিল পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পুরনিগমের যুক্তি, ভাড়াটিয়া মালিককে টাকা না দিলেও পুরসভার দেওয়া জল, আলো, রাস্তা ও সাফাইয়ের মতো সমস্ত পরিষেবা ভোগ করছেন। তাই করের দায়ভার তাঁদের এড়ানোর সুযোগ নেই।
যাদবপুর-বেহালায় বিশেষ নজর
বৈঠকে উঠে এসেছে যে, শহরের সংযুক্ত এলাকা যেমন— বেহালা, টালিগঞ্জ এবং যাদবপুরে প্রচুর সম্পত্তি এখনও মূল্যায়নের (Assessment) বাইরে পড়ে রয়েছে। মেয়র নির্দেশ দিয়েছেন, দ্রুত এই সম্পত্তিগুলি চিহ্নিত করে করের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে কর দেওয়া বাড়িগুলির গায়ে বিশেষ ‘প্লাক’ বা পরিচয় চিহ্ন লাগানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
বেআইনি নির্মাণে কড়াকড়ি
বিশেষ করে বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে কর ফাঁকি রুখতে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। মেয়রের কথায়, “রাজস্ব আদায় আগের চেয়ে বাড়লেও খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই আয় পর্যাপ্ত নয়। প্রতিটি ফাইল ধরে খতিয়ে দেখে যেখানে খামতি আছে, তা শুধরে নিতে হবে।”
পুর কমিশনার সুমিত গুপ্তা-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকের পর এটা স্পষ্ট— কর ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়া এবার কলকাতার বাসিন্দাদের জন্য কঠিন হতে চলেছে।