শহর কলকাতার হৃদস্পন্দন ফের একবার বইয়ের পাতায় স্পন্দিত হতে শুরু করল। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের মেলা প্রাঙ্গণে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী মঞ্চে তিনি মেলাকে ‘বিশ্ব সাহিত্যের মিলনমেলা’ হিসেবে অভিহিত করে সমস্ত বইপ্রেমীদের অভিনন্দন জানান।
কবে পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা?
বইমেলা মানেই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— হাতে কদিন সময় আছে? মুখ্যমন্ত্রী আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত থাকবে। বরাবরের মতো এবারও সাধারণ মানুষের জন্য এন্ট্রি ফি সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে।
এবার থিম কান্ট্রি কোনটি?
এবারের বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি হলো লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা। ফুটবল থেকে সাহিত্য— দুই বাংলার মানুষের সঙ্গেই আর্জেন্টিনার নিবিড় যোগ এবার ধরা পড়বে বইমেলার তোরণ এবং প্যাভিলিয়নে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারী দেশ ও স্টলের সংখ্যা
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারের মেলায় প্রায় ২০টি দেশ সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। প্রায় ১১০০টি ছোট-বড় স্টল সাজানো হয়েছে পাঠকদের পছন্দের বইয়ের সম্ভার নিয়ে। স্মার্টফোন আর এআই-এর যুগেও বইয়ের গুরুত্ব যে কমেনি, তা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষ এখন ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যস্ত থাকলেও প্রকৃত বইপ্রেমীরা আজও বইয়ের গন্ধে মশগুল থাকেন।”
রেকর্ড বিক্রির হাতছানি
গত বছর বইমেলায় রেকর্ড ২৭ লক্ষ মানুষ এসেছিলেন এবং প্রায় ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে আরও বেশি মানুষ আসবেন এবং বই বিক্রির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও গিল্ডের কর্তারা।
উল্লেখ্য, সামনেই ৫০তম বইমেলা। তার আগে এবার থেকেই ‘৫০-এর ডাক’ শুরু হয়ে গেল বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী কয়েকদিন কলকাতার মেজাজ যে বইমুখো হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।