চরম আর্থিক সংকটে ডুবে থাকা পাকিস্তানের ভাঁড়ার আজ শূন্য। বিদেশের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পেতে থাকা দেশটির আমজনতার নুন আনতে পান্তা ফুরায় দশা। অথচ এই পরিস্থিতিতেই এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত বিল পাস করল পাকিস্তানের সংসদ। নতুন এই আইন অনুযায়ী, পাক সাংসদরা এখন থেকে চাইলে নিজেদের এবং পরিবারের যাবতীয় ব্যক্তিগত সম্পদের খতিয়ান জনসমক্ষে না এনে গোপন রাখতে পারবেন। ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ’-এর অজুহাত দেখিয়ে আনা এই বিলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
কেন এই লুকোছাপা? কী বলছে ডন-এর রিপোর্ট? পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি কোনো আইনপ্রণেতা মনে করেন যে তার সম্পদের তথ্য প্রকাশ করলে তার বা তার পরিবারের জীবনের ওপর বড়সড় ঝুঁকি আসতে পারে, তবেই তিনি এই সুযোগ পাবেন। পাকিস্তানের বর্তমান নির্বাচনী আইনের ১৩৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ, সেনেট এবং প্রাদেশিক পরিষদের সব সদস্যকে প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্ত্রী ও সন্তানদেরসহ নিজেদের সম্পদের বিবরণ জমা দিতে হয় এবং নির্বাচন কমিশন তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করে। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে স্পিকার বা সেনেট চেয়ারম্যানকে সেই তথ্য গোপন রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এক বছরের জন্য ‘বিশেষ রক্ষাকবচ’ নতুন এই ‘নির্বাচন (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সাংসদরা এক বছরের জন্য এই গোপনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ পাবেন। যদিও শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, তাদের সমস্ত সম্পদের সঠিক বিবরণ নির্বাচন কমিশনের কাছে গোপনে জমা দিতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যে দেশের অর্থনীতি দেউলিয়া হওয়ার পথে, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ কীভাবে লাফিয়ে বাড়ছে, তা সাধারণ মানুষের আড়ালে রাখতেই এই কৌশল। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন, “একদিকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘোরা, আর অন্যদিকে কোটি টাকার সম্পদ পাহারা দেওয়া—পাকিস্তানের আসল চেহারা এটাই।”
নাম পরিবর্তন ও রাষ্ট্রপতির সম্মতির অপেক্ষা মজার বিষয় হলো, এই সংশোধনীর মাধ্যমে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টকে নির্দেশ করতে ব্যবহৃত ‘সুপ্রিম’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশন’ শব্দটি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলটি সংসদে পাস হলেও কার্যকর হওয়ার জন্য এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এই বিল নিয়ে যেভাবে লুকোচুরির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে শাহবাজ সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।