‘আমাকে মারার চেষ্টা করলেই পৃথিবী থেকে মুছে যাবে ইরান’, ট্রাম্পের হুঙ্কারে কাঁপছে দুনিয়া!

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আরও একবার ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। এবার সরাসরি ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত ইরানে যখন রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চলছে, ঠিক তখনই তেহরানকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বসলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তাঁর প্রাণের ওপর কোনো রকম আঘাত এলে তার ফল হবে ভয়াবহ— অস্তিত্ব সংকটে পড়বে গোটা ইরান।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান বাগযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেজাজ হারান ট্রাম্প। নিজের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, “ওদের (ইরান) এমন কিছু করা উচিত নয়। তবু আমি সবকিছুর জন্য তৈরি। আমি কড়া নির্দেশ দিয়ে রেখেছি— যদি আমার কিছু হয়, তবে ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া হবে। গোটা দেশটি উড়ে যাবে।” উল্লেখ্য, এক বছর আগেও ট্রাম্পের মুখে একই সুরে হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছিল, যা নতুন করে দুই দেশের সংঘাতকে উস্কে দিয়েছে।

এদিকে ইরানের অন্দরে পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাপনের অসহনীয় ব্যয়ের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। আন্দোলনকারীদের নিশানায় এখন খোদ সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। রিপোর্ট বলছে, এবারের আন্দোলনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও তেহরানের দাবি, এই অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েলের গভীর ষড়যন্ত্র।

পাল্টা হুঁশিয়ারি দিতে ছাড়েনি ইরানও। সে দেশের জেনারেল আবুলফজল শেকরচি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিঁধে বলেছেন, “ট্রাম্প ভালো করেই জানেন, আমাদের নেতার বিরুদ্ধে যদি কোনো আগ্রাসী হাত এগিয়ে আসে, তবে আমরা সেই হাত কেটে দেব। এটা কোনো ফাঁকা বুলি নয়, প্রয়োজনে গোটা পৃথিবীতে আগুন জ্বলবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, যুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকার জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট থাকবে না।

বর্তমানে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। মসজিদ ও সরকারি ভবন ভাঙচুরের অভিযোগে অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও, হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর স্বীকার করে নিয়েছেন স্বয়ং আয়াতোল্লা খামেনেই। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছাল, যা বড় কোনো সামরিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy