ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের শীতলতার সুযোগ নিয়ে কি ভারতের গলার কাঁটা হতে চাইছে চিন? সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এক পদক্ষেপ নয়া দিল্লির উদ্বেগের পারদ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূখণ্ড ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের একেবারে গা ঘেঁষে চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-কে তিস্তা নদী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা। সোমবার বাংলাদেশের জলসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে সঙ্গে নিয়ে এলাকাটি ঘুরে দেখেন চিনা প্রতিনিধিরা।
কেন এই সফর দিল্লির মাথা ব্যথার কারণ? শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি ভূখণ্ড, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করে রেখেছে। সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই এলাকাটি ভারতের কাছে ‘রেড লাইন’। এই করিডোরের এত কাছে চিনা কূটনীতিবিদদের উপস্থিতি নজিরবিহীন এবং বিপজ্জনক বলে মনে করছে সাউথ ব্লক। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নের আড়ালে ভারতের সবচেয়ে দুর্বল সামরিক করিডোরের ওপর নজরদারি চালাতে চাইছে বেজিং।
বাংলাদেশের অবস্থান: ঢাকার দাবি, এই সফর নিছকই ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট’-এর কারিগরি সমীক্ষার অংশ। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, চিন তিস্তা মাস্টার প্ল্যানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির অচলাবস্থাকে কাজে লাগিয়েই ঢাকা এখন চিনকে ‘উন্নয়ন সঙ্গী’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
উদ্বেগের অন্য পিঠ: শুধু তিস্তা প্রকল্প নয়, লালমনিরহাটের পুরনো বিমানঘাঁটি পুনরায় চালু করার তোড়জোড় ভারতের নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে। শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে চিনা সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্য়েই ওই এলাকায় সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে ভারতীয় সেনা। ভারতের অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইউনূস প্রশাসন যেভাবে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।