শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মারধর, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মন্দির ভাঙচুর থেকে শুরু করে খুনের মতো ঘটনা প্রতিদিন সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি রিপোর্টে কী আছে? ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর মোট ৬৪৫টি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকারের দাবি, এর মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা চিন্তাভাবনা থেকে হয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনাকে সরকার নিছক ‘অপরাধমূলক কাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পরিসংখ্যানের গোলকধাঁধা: রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৭১টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার মধ্যে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ৩৮টি, অগ্নিসংযোগ ৮টি, চুরি ১টি এবং ১টি হত্যার ঘটনা রয়েছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনার ব্যাখ্যায় সরকার জানিয়েছে, এর মধ্যে ১৭১টি অস্বাভাবিক মৃত্যু, ১০৬টি চুরি, ৫৮টি ধর্ষণ এবং ২৩টি জমি সংক্রান্ত বিবাদ রয়েছে। সরকারের দাবি, এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনো যোগ নেই, এগুলো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অপরাধপ্রবণ মানসিকতার ফল।
সরকারকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ হিন্দু নেতাদের: এই রিপোর্ট সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সংখ্যালঘু নেতারা। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ এই রিপোর্টকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, হিন্দুদের ওপর হওয়া সুপরিকল্পিত আক্রমণকে ‘সাধারণ অপরাধ’ হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে সরকার আসলে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকারের এই ধরণের বার্তায় দুষ্কৃতীরা আরও উৎসাহিত হবে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার আরও বাড়বে।”
২০২২ সালের জনগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ হিন্দু রয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ। নিত্যদিন চলা এই হামলা এবং সরকারের ‘ক্লিনচিট’ দেওয়ার মানসিকতা এখন ওপার বাংলার হিন্দুদের অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।