পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যে গভীর সখ্যতা রয়েছে, তা আবারও দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেল। সৌজন্যে লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম শীর্ষ কম্যান্ডার সাইফুল্লাহ কাসুরি। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে কাসুরি সগর্বে স্বীকার করেছে যে, পাক সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অনুষ্ঠানে সে নিয়মিত আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকে। এমনকি নিহত পাক সেনাদের ‘নামাজ-এ-জানাজা’ বা শেষকৃত্যে তাকে প্রার্থনা করার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ জানায় খোদ সেনাবাহিনী।
পহেলগাম হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কাসুরির এই বয়ান পাকিস্তান সরকারের সেই মিথ্যে দাবিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে, যেখানে তারা বারবার বলে এসেছে যে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। কাসুরি সগর্বে দাবি করেছে, “পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাকে আমন্ত্রণ জানায়। তারা আমাকে তাদের সৈন্যদের জানাজায় নামাজ পড়ার জন্য ডাকে।” এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রসংঘ-নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে পাক সেনা কী ভয়ঙ্কর যোগসাজশে লিপ্ত।
উল্লেখ্য, গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ২৬ জন নিরীহ অসামরিক নাগরিককে হত্যার নেপথ্যে ছিল এই কাসুরি। সাধারণ মানুষকে হত্যার আগে তাদের ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এই রক্তপিপাসু জঙ্গিরা। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জবাবে ভারত গত ৭ মে ভোরে শুরু করেছিল ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকেতে জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার ডেরায় নির্ভুল সার্জিক্যাল অ্যাটাক চালায়।
কাসুরি স্বীকার করেছে যে ভারতের এই ‘অপারেশন সিঁদুর’ পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামোয় এক বিধ্বংসী আঘাত হেনেছে। তবে নিজের ভাষণে ভারতের প্রতি বিষোদগার করতে ভোলেনি সে। ভারতকে হুমকির সুরে সে জানিয়েছে যে, তারা কাশ্মীর মিশন থেকে পিছু হটবে না। পাকিস্তান যখন আর্থিক সংকটে জর্জরিত, তখন খোদ সেনার সঙ্গে জঙ্গিদের এই প্রকাশ্য মাখামাখি আন্তর্জাতিক মহলে ইসলামাবাদের মুখ পুড়িয়েছে।