বিশ্ব ভূ-রাজনীতির সমীকরণ কি দ্রুত বদলে যাচ্ছে? একদিকে যখন ট্রাম্পের ফিরে আসা এবং পশ্চিমী দেশগুলির দাপট, ঠিক তখনই পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল ‘ব্রিকস প্লাস’ (BRICS Plus)। দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে শুরু হলো এক নজিরবিহীন যৌথ নৌসেনা মহড়া, যেখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রণতরী নামাল রাশিয়া, চিন এবং ইরান।
‘উইল ফর পিস ২০২৬’: বন্ধুত্বের নাকি যুদ্ধের প্রস্তুতি? দক্ষিণ আফ্রিকার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া এই মহড়ার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘উইল ফর পিস ২০২৬’। সরকারিভাবে একে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও শিপিং রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মহড়া বলা হলেও, কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। চিনা সামরিক কর্তারা জানিয়েছেন, ব্রাজিল, মিশর এবং ইথিওপিয়া এই মহড়ায় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত রয়েছে। কার্যত, আমেরিকা ও পশ্চিমী জোটের বাইরে একটি শক্তিশালী বিকল্প অক্ষ তৈরির বার্তাই দিচ্ছে এই তিন দেশ।
ট্রাম্পের হুমকি ও ব্রিকস-এর পাল্টা চাল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ব্রিকস দেশগুলির বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ এজেন্ডা চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। এমনকী ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলির ওপর মোটা অঙ্কের ট্যারিফ বা শুল্ক বসানোর হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। এই উত্তপ্ত আবহে চিন ও রাশিয়ার সাথে ইরানের এই যৌথ মহড়া হোয়াইট হাউসের রক্তচাপ যে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
বিতর্কের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকা তবে এই মহড়া নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ডামাডোল। সে দেশের প্রো-ওয়েস্টার্ন ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের দাবি, এই মহড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ঘোষিত ‘নিরপেক্ষ’ বিদেশনীতিকে ক্ষুণ্ণ করছে। তাদের আশঙ্কা, দেশটিকে আন্তর্জাতিক শক্তি সংঘর্ষে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার সেনা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ম্ফো মাথেবুলা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, এটি কোনও দেশ-বিরোধী বা বিশেষ করে আমেরিকা-বিরোধী উদ্যোগ নয়।
নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার ইঙ্গিত? বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রিকস এখন আর শুধু বাণিজ্যিক জোট নয়। সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইথিওপিয়ার মতো দেশের অন্তর্ভুক্তিতে এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মাঝসমুদ্রে এই শক্তির মহড়া কি তবে ওয়াশিংটনকে সরিয়ে নতুন কোনও বিশ্ব ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ভবিষ্যতের গর্ভে।