চিন-পাকিস্তান সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নজরদারি, মে মাসে আকাশপথে বড় শক্তি পাচ্ছে ভারতীয় সেনা!

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় মাইলফলক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মে মাসেই রাশিয়ার কাছ থেকে চতুর্থ S-400 ‘সুদর্শন চক্র’ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম পেতে চলেছে ভারত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহে কিছুটা দেরি হলেও, অবশেষে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে আশ্বস্ত করেছে যে বাকি ইউনিটগুলো শীঘ্রই হস্তান্তর করা হবে।

ভারতের ‘সুদর্শন চক্র’ ও তার ক্ষমতা

ভারতে S-400 মিসাইল সিস্টেমটি ‘সুদর্শন চক্র’ নামে পরিচিত। এটি কেবল একটি মিসাইল নয়, বরং ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর মেরুদণ্ড।

  • পাল্লা: এটি ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরে থাকা শত্রু বিমান, ক্রুজ মিসাইল, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ড্রোন নিমেষেই ধ্বংস করতে সক্ষম।

  • সজ্জা: প্রতিটি স্কোয়াড্রনে একাধিক রাডার সিস্টেম, কমান্ড ভেহিকল এবং ঘাতক ইন্টারসেপ্টর মিসাইল থাকে।

কেন মে মাসে আসা গুরুত্বপূর্ণ?

২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছিল ৫টি S-400 স্কোয়াড্রনের জন্য। ইতিমধ্যে ৩টি ইউনিট ভারতে এসে পৌঁছেছে এবং সেগুলি পাকিস্তান ও চিনের সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে। মে মাসে চতুর্থ ইউনিটটি এলে ভারতের উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে প্রতিরক্ষা ঢাল আরও দুর্ভেদ্য হয়ে উঠবে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ ও কৌশলগত এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ভারত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছিল, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়ে। অনেক বিশেষজ্ঞই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন যে আদৌ কি ভারত দ্রুত বাকি ইউনিটগুলো পাবে? কিন্তু সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মস্কো জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী সবকটি ইউনিট সময়মতো পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনা বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় এবং জরুরি প্রয়োজনে এই মিসাইল সিস্টেম ব্যবহারের পরীক্ষা চালিয়েছে, যা শত্রু শিবিরের জন্য বড় সতর্কবার্তা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy