রাস্তার ধারের ধোঁয়া ওঠা মোমো কি আসলে বিষ? এই প্রতিবেদনটি পড়ার পর খাওয়ার আগে দুবার ভাববেন!

বিকেলের আড্ডায় বা অফিস ফেরতা পথে এক প্লেট ধোঁয়া ওঠা মোমো আর ঝাল চাটনি— অনেকেরই বিকেলের প্রিয় জলখাবার। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে মোমোকে আপনি ‘হেলদি’ বা স্বাস্থ্যকর মনে করে খাচ্ছেন, দোকানের সেই সুস্বাদু মোমোই আপনার শরীরের জন্য হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক ক্ষতিকর? কেন দোকানের মোমো এড়ানো উচিত, তার কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক গবেষণায়।

কেন দোকানের মোমো স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি?

১. রিফাইন করা ময়দার কারসাজি: দোকানের মোমো তৈরি হয় অতিরিক্ত রিফাইন করা সাদা ময়দা দিয়ে, যা ব্লিচ করার জন্য ‘অ্যালোক্সান’ (Alloxan) নামক রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্ষতি করে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. আজিনামোতো বা MSG-এর ব্যবহার: মোমোর স্বাদ দ্বিগুণ করতে এতে প্রচুর পরিমাণে মোনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (MSG) মেশানো হয়। এটি স্নায়ুর ক্ষতি, বুক ধড়ফড় করা এবং দীর্ঘমেয়াদী মাইগ্রেনের ব্যথার অন্যতম কারণ।

৩. নিম্নমানের কাঁচামাল: খরচ কমাতে অনেক সময় মোমোর ভেতরের পুর হিসেবে বাসি মাংস বা পচা সবজি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে টাইফয়েড, আমাশয় ও পেটের গুরুতর ইনফেকশন হতে পারে।

৪. বিষাক্ত চাটনি: মোমোর সাথে দেওয়া লাল চাটনিকে আকর্ষণীয় করতে সস্তা ফুড কালার এবং অতিরিক্ত লঙ্কা গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়, যা পাকস্থলীতে আলসার ও লিভারের সমস্যার সৃষ্টি করে।

৫. হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতার অভাব: রাস্তার ধারের খোলা পরিবেশে ধুলোবালি এবং অস্বাস্থ্যকর জল ব্যবহার করে মোমো ও তার সুপ তৈরি করা হয়, যা ব্যাক্টেরিয়ার আঁতুড়ঘর।

সুস্থ থাকতে উপায় কী? মোমো খেতে ভালোবাসলে বাইরে না খেয়ে বাড়িতেই আটা (Whole Wheat) দিয়ে তৈরি করুন। তাতে টাটকা সবজি ও মাংস ব্যবহার করুন এবং আজিনামোতো এড়িয়ে চলুন। এটি কেবল সুস্বাদু নয়, বরং আপনার শরীরের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy