সল্টলেকের আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির হানা নিয়ে এবার রণক্ষেত্র দেশের রাজধানী। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে নজিরবিহীন হেনস্থার মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদরা। মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়দের টেনে-হিঁচড়ে চ্যাংদোলা করে সরিয়ে দিল দিল্লি পুলিশ। তবে পুলিশের বাসে উঠে বা থানায় গিয়েও দমে যাননি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। থানা থেকেই ফেসবুক লাইভে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।
“চুরি করতেই ইডি হানা”
পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় বসে লাইভে মহুয়া মৈত্র সরাসরি তোপ দাগেন অমিত শাহের দিকে। তাঁর দাবি:
-
তথ্য চুরির ছক: সাত-আট বছর আগের পুরনো কয়লা কেলেঙ্কারির অজুহাত দিয়ে ইডি আসলে আইপ্যাকের কম্পিউটার থেকে তৃণমূলের আগামী নির্বাচনের গোপন তথ্য, সার্ভে রিপোর্ট এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতে চাইছে।
-
সময়ের প্রশ্ন: মহুয়ার তীক্ষ্ণ প্রশ্ন— “যদি কয়লা কেলেঙ্কারি সত্যিই হয়ে থাকে, তবে কি সাত বছর ধরে এজেন্সি ঘুমোচ্ছিল? হঠাৎ ভোটের মুখেই কেন তাদের ঘুম ভাঙল?”
তৃণমূল ‘বাঘের বাচ্চা’
বিক্ষোভের সময় পুলিশি ধরপাকড়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মহুয়া। তাঁকে যখন চার হাত-পা ধরে চ্যাংদোলা করে বাসে তোলা হচ্ছিল, তখন তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, “সারা দেশের মানুষ দেখুন এদের বুকের পাটা নেই। গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দিচ্ছে।” লাইভ ভিডিওতে শতাব্দী রায়, প্রতিমা মণ্ডল ও সাকেত গোখলেদের পাশে নিয়ে মহুয়া হুঁশিয়ারি দেন, তৃণমূল ‘বাঘের বাচ্চা’, এভাবে ভয় দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না।
শান্তিপূর্ণ ধরনায় ‘বলপ্রয়োগ’
তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে বসেছিলেন। কোনো প্ররোচনা ছাড়াই দিল্লি পুলিশ মহিলা সাংসদদের গায়ে হাত দিয়েছে এবং তাঁদের টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলেছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার প্রতিবাদে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আজ কলকাতায় বড়সড় আন্দোলনে নামছেন।
দিল্লি বনাম কলকাতার এই সংঘাত যে আগামী দিনে আরও তীব্র হবে, মহুয়ার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।