ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। রিপোর্ট বলছে, সীমান্তে লস্কর-ই-তৈবা (LeT) বা জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) তো ছিলই, এবার তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে প্যালেস্তাইনি জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস। সম্প্রতি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এবং পাকিস্তানের গুজরানওয়ালায় এই দুই গোষ্ঠীর নেতাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
এক মঞ্চে হামাস ও লস্কর!
ঘটনাটি আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যখন দেখা যায়, হামাস নেতা নাজি জাহির পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ (PMML)-এর এক সভায় যোগ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই PMML হলো লস্কর প্রধান হাফিজ সইদের জঙ্গি সংগঠনের একটি রাজনৈতিক মুখোশ, যাকে আমেরিকা ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। গুজরানওয়ালার এক অনুষ্ঠানে হামাস কমান্ডারের সঙ্গে একই স্টেজে দেখা গিয়েছে লস্কর কমান্ডার রাশিদ আলি সান্ধুকে।
২০২৫-এর মাস্টারপ্ল্যান: নেপথ্যে ISI
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতকে অস্থির করে তুলতে ISI এক ভয়াবহ ছক সাজিয়েছে। হামাসের সঙ্গে জোট বাঁধার ফলে লস্কর ও জইশ এখন বড় আকারের গেরিলা আক্রমণের কৌশল রপ্ত করছে। এর ফলে উপত্যকার পাহেলগামের মতো জায়গায় বড়সড় নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সীমান্তেও বিপদের মেঘ
ভারতের চিন্তা কেবল কাশ্মীর নিয়ে নয়, উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশও। শেখ হাসিনার পতনের পর সেখানে উগ্রবাদী ইসলামি মানসিকতা মাথাচাড়া দিয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি:
-
পাকিস্তানের ISI আধিকারিকরা বাংলাদেশে যাতায়াত বাড়িয়েছেন।
-
সেখানে জামাত-ই-ইসলামী এবং লস্কর-ই-তৈবার নেটওয়ার্ক বাড়াতে মদত দিচ্ছে পাকিস্তান।
-
পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে অস্থিরতা তৈরির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে।
তৎপর ভারতীয় গোয়েন্দারা
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে RAW এবং IB-কে চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের উত্তর ও পূর্ব— দুই সীমান্ত দিয়েই এই ‘জঙ্গি জোট’ যাতে কোনোভাবেই সফল না হয়, তা নিশ্চিত করতে সামরিক তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে। ভারতের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির মতে, হামাসের ধ্বংসাত্মক কৌশল আর লস্করের স্থানীয় নেটওয়ার্ক এক হওয়া মানেই দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য তা লাল সংকেত।