“১৬ কোটির চেকেই ফাঁস আইপ্যাকের জারিজুরি!” ফাইল কাণ্ডে মমতাকে ‘গুণ্ডামি’র খোঁচা শুভেন্দুর

আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির তল্লাশি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ফাইল উদ্ধার’ ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে এই ঘটনাকে সরাসরি ‘গুণ্ডামি’ বলে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ইডির সংযমকে দরাজ সার্টিফিকেট দেওয়ার পাশাপাশি ১৬ কোটির দুর্নীতির এক চাঞ্চল্যকর তথ্যও পেশ করেন তিনি।

“ইডি বাধা না দিয়ে ঠিকই করেছে”

বৃহস্পতিবার আইপ্যাক অফিস থেকে মুখ্যমন্ত্রী যখন ফাইল নিয়ে বের হচ্ছিলেন, তখন কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে বাধা দিল না? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচুর পুলিশ নিয়ে গিয়েছিলেন। ইডি বাধা দিলে বড় কোনো সমস্যা হতে পারত। পুলিশ নীতি লঙ্ঘন করেছে, কিন্তু ইডি শান্ত থেকে মানুষের সামনে সত্যটা তুলে ধরেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, রাজ্যের মানুষ দেখেছে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী ‘চোর’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্তদের’ বাঁচাতে ছুটে যান।

ব্যাঙ্ক নম্বর ও ১৬ কোটির বোমা!

শুভেন্দু অধিকারীর সবথেকে বড় অভিযোগটি ছিল আর্থিক লেনদেন নিয়ে। তাঁর দাবি:

  • জল জীবন মিশন: কেন্দ্র থেকে আসা ৮ হাজার কোটি টাকা হাওলা হয়ে গিয়েছে।

  • কেজি কনস্ট্রাকশন: এই ঠিকাদারি সংস্থা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৭৮ কোটির বরাত পেয়েছিল।

  • চেকে টাকা বদল: ২০২১ নির্বাচনের আগে এই সংস্থাই ১৬ কোটি টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে পাঠায়। শুভেন্দু এদিন একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের নাম ও চেক নম্বর উল্লেখ করে দাবি করেন, এর প্রমাণ তাঁর কাছে আছে।

মুখ্যমন্ত্রীর ‘তড়িৎগতি’ নিয়ে প্রশ্ন

শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেন, উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫০ জনের মৃত্যু হলেও মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে যান না। অথচ আইপ্যাক অফিসে ইডি ঢুকতেই তিনি সব কাজ ফেলে সল্টলেকে ছুটে যান। বিরোধী দলনেতার প্রশ্ন— “এমন কী ছিল ওই সবুজ ফাইলে যে মুখ্যমন্ত্রীকে সশরীরে গিয়ে তা উদ্ধার করতে হলো?”

শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, আইপ্যাকের সঙ্গে কেবল কয়লা বা গরু পাচার নয়, দিল্লি লিকার স্ক্যাম এবং গোয়া নির্বাচনের অর্থের লেনদেনের যোগসূত্রও রয়েছে। এখন হাইকোর্টের শুনানিতে এই ‘ফাইল লোপাট’ এবং শুভেন্দুর দেওয়া তথ্যপ্রমাণ তদন্তকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy