এমনিতেই শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছিল রাজধানী, তার ওপর দোসর হলো অকাল বৃষ্টি। এই দুইয়ের জোড়া ফলায় শুক্রবার দিল্লির জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি আর শৈত্যপ্রবাহের জেরে কনকনে ঠান্ডার অনুভূতি বজায় থাকবে সারাদিন। সবথেকে বড় বিষয় হলো, আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে এই বৃষ্টির কোনো আগাম পূর্বাভাস ছিল না। শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টিতে ভিজে যায় দিল্লি শহর ও সংলগ্ন এলাকা।
আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তর শুক্রবার সকালে এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে, দিল্লির প্রীত বিহার, ইন্ডিয়া গেট, অক্ষরধাম, লোধি রোড এবং সফদরজং এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের কিছু কিছু এলাকাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
মরসুমের শীতলতম দিন: শুক্রবার দিল্লি এই মরসুমের শীতলতম দিন প্রত্যক্ষ করল। এ দিন দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.৮ ডিগ্রি। পালাম মনিটরিং স্টেশনে তাপমাত্রা সবথেকে বেশি কমে ৪.৮ ডিগ্রিতে দাঁড়িয়েছে। শুধু সর্বনিম্ন নয়, সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও রেকর্ড পতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৭.৫ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি কম। পালামে এই পারদ ১৪.৫ ডিগ্রিতে নেমে যাওয়ায় ঠান্ডার দাপট আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস: আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েকদিন দিল্লির আবহাওয়া এমনটাই থাকবে। তবে শুক্রবারের পর থেকে তাপমাত্রায় সামান্য উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের জেরে ঠান্ডার অনুভূতি কমবে না। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। তবে ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।