ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেছে বলে মনে করতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে এবং সেক্টর ফাইভের অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) হানা দিতেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল পরিস্থিতি। তল্লাশি চলাকালীন আচমকাই সেখানে সশরীরে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু হাজির হওয়াই নয়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে দিয়েই সবুজ রঙের ফাইল, ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক এবং প্রতীকের মোবাইল ফোন নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান তিনি।
কয়লা কাণ্ডের যোগসূত্র: সূত্রের খবর, দিল্লিতে নথিভুক্ত একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই ইডি এই অভিযান চালায়। উল্লেখ্য, তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলায় আগেই ইডির নজরে ছিলেন। আইপ্যাক যেহেতু অভিষেকের অফিসের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে, তাই এই তল্লাশি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কে এই প্রতীক জৈন? আইআইটি বম্বের প্রাক্তনী প্রতীক জৈন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের উত্তরসূরি এবং আইপ্যাক-এর বর্তমান কাণ্ডারি। পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের আইটি সেলেরও প্রধান। দলের প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্রচার— সবকিছুর নাড়িনক্ষত্র থাকে প্রতীকের নখদর্পণে। তাঁর কাছে থাকা ল্যাপটপ ও ফাইলে তৃণমূলের অত্যন্ত গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভবত সেই তথ্য যাতে ‘বেহাত’ না হয়, তা নিশ্চিত করতেই মুখ্যমন্ত্রী প্রোটোকল ভেঙে নিজে মাঠে নামলেন।
সরগরম বিধানসভা ভোটের ময়দান: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনায় উত্তেজনার পারদ চড়েছে কয়েক গুণ। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, ইডি-র তল্লাশির মধ্যে থেকে এভাবে নথি সরিয়ে নেওয়া কি আইনত বৈধ? অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। আইপ্যাক-এর এই তল্লাশি এবং মমতার পালটা চ্যালেঞ্জ এখন বাংলার রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়।