নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে ‘SIR’ (Special Information Report) হিয়ারিংয়ে তলব করা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। তৃণমূলের কড়া সমালোচনা এবং রাজনৈতিক মহলে শোরগোলের পর অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুলল পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। শুধু অমর্ত্য সেনই নন, ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেবকে কেন নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন।
কেন এই তলব? কমিশনের সাফাই
পিটিআই (PTI) সূত্রে খবর, রাজ্যের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে অমর্ত্য সেন, মহম্মদ শামি বা দেবকে নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি ‘রুটিন ওয়ার্ক’। কমিশনের দাবি:
-
এনুমারেশন ফর্ম স্ক্রুটিনি করার সময় কিছু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।
-
ফর্মের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কলাম ফাঁকা রাখা হয়েছিল।
-
রুটিন ইলেকটোরাল ভেরিফিকেশনের জন্যই এই হিয়ারিং ডাকা হয়েছে।
অমর্ত্য সেনের ফর্মে ‘অসম্ভব’ তথ্য?
মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দাবি করেছিলেন যে নোবেলজয়ীকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে। প্রথমে অস্বীকার করলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল করে কমিশনের প্রতিনিধি দল পৌঁছে যায় শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’ বাসভবনে।
কমিশন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অমর্ত্য সেনের জমা দেওয়া ফর্মে একটি বিচিত্র তথ্য মিলেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অমর্ত্য সেন এবং তাঁর মায়ের বয়সের পার্থক্য মাত্র ১৫ বছর! স্বাভাবিকভাবেই এই তথ্যটি বাস্তবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই মনে করছে কমিশন। মূলত এই তথ্যগত ত্রুটি সংশোধনের জন্যই তাঁকে হিয়ারিংয়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শামি ও দেবের নোটিশ নিয়েও বাড়ছে পারদ
শুধু অমর্ত্য সেনই নন, মহম্মদ শামি এবং অভিনেতা-সাংসদ দেবের ক্ষেত্রেও একই ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলা হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ একে ‘টার্গেট’ হিসেবে দেখছে, তবে CEO অফিসের স্পষ্ট বার্তা—কাউকে লক্ষ্য করে নয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই রুটিন ভেরিফিকেশন।
এখন দেখার, কমিশনের এই ব্যাখ্যায় রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হয় কি না।