OTP শেয়ার করতেই ফাঁস জালিয়াতি! ভোটার তালিকায় বেনিয়ম, FIR-এর মুখে ৫ সরকারি কর্মী

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিন্দুমাত্র গাফিলতি সহ্য করবে না নির্বাচন কমিশন। তালিকায় অবৈধভাবে নাম তোলা ও ডেটাবেস নিয়ে কারচুপির অভিযোগে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না— এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৫ জন আধিকারিক ও কর্মীর বিরুদ্ধে FIR করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারই সংশ্লিষ্ট দুই জেলার জেলাশাসককে এই কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

অভিযুক্তের তালিকায় কারা?

কমিশনের নির্দেশে যাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তারা হলেন:

  • বারুইপুর পূর্ব: ইআরও (ERO) দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং এইআরও (AERO) তথাগত মণ্ডল।

  • ময়না: ইআরও বিপ্লব সরকার, এইআরও সুদীপ্ত দাস এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (অস্থায়ী কর্মী) সুরজিৎ হালদার।

উল্লেখ্য, দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রামীণ উন্নয়ন সেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন এবং বিপ্লব সরকার পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের আধিকারিক।

কীভাবে চলত এই জালিয়াতি?

তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম তোলার জন্য নির্বাচন কমিশনের অত্যন্ত গোপনীয় ডেটাবেসের ‘লগ-ইন আইডি’ নিয়ম ভেঙে অন্যদের দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এই ডেটাবেসে ঢুকতে গেলে ইআরও-র রেজিস্টার্ড মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) আসে। অভিযোগ, সেই ওটিপি-ও অবৈধভাবে শেয়ার করা হয়েছিল ওই অস্থায়ী কর্মী বা ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের সাথে। অর্থাৎ, খোদ আধিকারিকদের মদতেই চলেছে এই তথ্য কারচুপি।

বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

শুধুমাত্র FIR নয়, এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বিভাগীয় তদন্ত বা ‘Departmental Enquiry’ শুরু করারও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই কমিশনের এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

কমিশনের এই কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিল— ২০২৬-এর আগে ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো ধরণের ‘খেলা’ বরদাস্ত করা হবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy