পশ্চিম মেদিনীপুরের এই শিক্ষককে কুর্নিশ জানাচ্ছে দেশ। দীর্ঘ ৩২ বছরের বর্ণময় শিক্ষকতা জীবনের অবসান। নিয়ম মেনে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসর নিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ২ ব্লকের সোহাগপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যোগেশচন্দ্র জানা। কিন্তু তাঁর বিদায়বেলা আর পাঁচটা সাধারণ অবসরের মতো ছিল না। বিদায়ের মুহূর্তে নিজের সারা জীবনের কষ্টার্জিত জমানো পুঁজি উজাড় করে দিলেন প্রাণের স্কুলকে। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে, নিজের জমানো টাকা দিয়ে স্কুলের জন্য তৈরি করে দিলেন আস্ত একটি শ্রেণিকক্ষ এবং সুদৃশ্য কংক্রিটের তোরণ।
সোহাগপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার অনুমতি পেলেও স্রেফ ঘরের অভাবে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছিল না। দীর্ঘ ১২ বছর এই স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা যোগেশবাবু জানতেন পড়ুয়াদের এই কষ্টের কথা। তাই অবসরের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নিজের গাটের কড়ি খরচ করে পঞ্চম শ্রেণির জন্য নতুন শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে দেন তিনি। ভেঙে পড়া স্কুলের প্রবেশদ্বারটিও নতুন করে গড়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু শিক্ষকই নন, লেখক হিসেবেও পরিচিত যোগেশবাবুর এই মানবিক উদ্যোগ দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন তাঁর ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে গোটা গ্রাম।
বুধবার ছিল তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন। সেই দিনেই নবনির্মিত ক্লাসরুম ও গেটের ফিতে কেটে উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা। যোগেশবাবু বলেন, “আমি তো চলে যাচ্ছি, কিন্তু স্কুলের অভাবগুলো আমাকে সব সময় ভাবাত। আজ বড় শান্তি পেলাম।” বর্তমান যুগে যেখানে স্বার্থের লড়াই চারিদিকে, সেখানে মেদিনীপুরের এই মাস্টামশাই প্রমাণ করে দিলেন শিক্ষকতা কেবল পেশা নয়, বরং আজীবন দায়বদ্ধতা।