জম্মু-কাশ্মীরের ডোডায় জঙ্গি কার্যকলাপ সমূলে উৎপাটন করতে এবার দ্বিস্তরীয় রণকৌশল নিল প্রশাসন। একদিকে উপত্যকার দুর্গম পাহাড়ি খাঁজে ভারতীয় জওয়ানদের শ্বাসরুদ্ধকর চিরুনি তল্লাশি চলছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এক শক্তিশালী ‘সুরক্ষাবলয়’। জঙ্গিদের গতিবিধি রুখতে এবং অতর্কিত হামলা মোকাবিলায় এখন স্থানীয় সাধারণ মানুষকেও দেওয়া হচ্ছে আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ডোডাকে জঙ্গিমুক্ত করতে গ্রাম রক্ষী বা ‘ভিলেজ ডিফেন্স গার্ডস’ (VDG)-এর ওপর সবথেকে বেশি ভরসা করা হচ্ছে। যেহেতু স্থানীয়রা এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে সেনাবাহিনীর চেয়েও বেশি ওয়াকিবহাল, তাই তাঁদের বিশেষ রণকৌশল শিখিয়ে তৈরি রাখা হচ্ছে। ডোডায় সাম্প্রতিক কিছু জঙ্গি হানার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চালানো থেকে শুরু করে আত্মরক্ষার কৌশল—সবই শেখানো হচ্ছে এই প্রশিক্ষণে।
সেনা কর্তাদের মতে, জঙ্গিরা যখন পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপন করে থাকে, তখন গ্রামবাসীরাই হতে পারেন সেনার চোখ ও কান। এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলে গ্রামের মানুষরাই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন। একদিকে জওয়ানদের ভারী বুটের শব্দ আর অন্যদিকে প্রশিক্ষিত গ্রাম রক্ষীদের অতন্দ্র প্রহরা—ডোডায় জঙ্গিদের পালানোর সমস্ত পথ এখন কার্যত বন্ধ। উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে এই ‘পিপলস রেজিস্ট্যান্স’ বা জন-প্রতিরোধ আগামী দিনে গেম চেঞ্জার হতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।